পঞ্চগড় পৌরসভার জ্বালাসি এলাকায় রাস্তার পাশে গড়ে ওঠা একটি ময়লার ভাগাড়ের দুর্গন্ধে এলাকায় বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দূষণ আর দুর্গন্ধে শুধু এলাকাবাসীই অতিষ্ঠ নন পঞ্চগড়-হাড়িভাসা ও পঞ্চগড়-টুনিরহাট এলাকায় চলাচলকারী পথচারীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। পৌর এলাকার সব রকমের ময়লা আবর্জনা ঐ ভাগাড়ে ফেলায় পচা দুর্গন্ধের কারণে মানুষ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। এলাকাবাসী তো বটেই চলাচলকারী সাধারণ মানুষ নাক মুখ বন্ধ করে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে রাস্তায়। এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে একাধিকবার এ বিষয়টি পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থাই নেননি।
জেলা শহরের পৌরসভার জ্বালাসি এলাকায় স্থাপিত ঐ ময়লার ভাগাড় থেকে প্রতিনিয়ত দুর্গন্ধ বের হওয়ার কারণে প্রতিদিন কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার পথচারী দূষণের শিকার হচ্ছেন। পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাষা, চাকলাহাট, কামাত কাজল দিঘি, অমরখানা, হাফিজাবাদ, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নসহ আরো বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ এই পথে চলাচল করে আসছে। ভাগাড়ের ময়লা আবর্জনা আর মৃত গরু, ছাগলসহ অন্য প্রাণীদের মৃতদেহের দুর্গন্ধে এলাকার পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়েছে।
হাড়িভাষা ইউনিয়নের পান ব্যবসায়ী মানিক খা জানান, ব্যবসার কারণে প্রতিদিনই পঞ্চগড় শহরে আসতে হয়। কিন্তু ময়লার ভাগাড়টি থেকে অতিরিক্ত গন্ধ বের হয়। এই গন্ধ নিয়েই প্রতিদিন চলাফেরা করতে হয়।
টুনিরহাট এলাকার আবু তাহের জানান, চাকরি সূত্রে শহরে প্রতিদিন আসি। ময়লার স্তূপের কাছে এলে বমি আসে।
চাকলাহাট কেপি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহ আলম সরকার জানান, দুর্গন্ধের কারণে একদিন অসুস্থ হয়ে গিয়েছিলাম। খুব দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে ময়লার ভাগাড়টি অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হোক।
শিক্ষার্থী সৌরভ হোসেন বলেন, আধুনিক পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনায় ময়লার ভাগাড়টি নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। না হলে দূষণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।
পঞ্চগড় পৌরসভার প্যানেল মেয়র আশরাফুল আলম জানান, ময়লার ভাগাড় গড়ে তোলার জন্য প্রায় তিন একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। আধুনিক এবং পরিবেশবান্ধব ময়লার ভাগাড় নির্মাণ কাজের টেন্ডার হয়ে গেছে। অচিরেই কাজ শুরু হবে। এটি নির্মিত হলে আর কোনো সমস্যা থাকবে না।