নোয়াখালীর হাতিয়ায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার পর বাড়ির পাশের একটি শুকনো গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে স্বামী পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সোনাদিয়া ইউনিয়নের চরচেঙ্গা মাইজছড়া এলাকা থেকে রোকসানা (২৫) নামের ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রোববার হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত রোকসানা সোনাদিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তার স্বামী মো. কাশেম একই এলাকার বাসিন্দা। তাদের দাম্পত্য জীবনের প্রায় সাত বছর পেরিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে কাশেম ও রোকসানার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল। এর ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার দিবাগত রাতেও দুজনের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কাশেম তার স্ত্রীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মারধরের পর রাতের কোনো এক সময় রোকসানাকে বাড়ির পাশের একটি শুকনো গাছের ডালের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রেখে কাশেম এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
শনিবার ভোরে স্থানীয় লোকজন গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে জাহাজমারা তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী কাশেম পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এর আগেও কাশেমের রডের আঘাতে রোকসানার চার মাসের অনাগত সন্তান নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এলাকায় আগেও এমন ঘটনা ঘটিয়ে প্রভাব খাটিয়ে আর্থিক মীমাংসার মাধ্যমে পার পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তারা এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরসহ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।