গাজীপুর মহানগরীর ঢাকা বাইপাস সড়কের নাওজোর থেকে পশ্চিম অভিমুখী কাশিমপুর হয়ে জিরানী বাজার পর্যন্ত দীর্ঘ ১২ কিলোমিটার সড়কটিতে দুটি সেতুর অভাবে মানুষ ও যানবাহন সরাসরি চলাচল করতে পারছে না। সড়কটির ভাঙা ব্রিজ-সংলগ্ন ফেউচারগাড়া বিলে এবং তুরাগ নদে দুটি সেতু নির্মাণ করা হলে এলাকার লোকজন জেলা শহরসহ রাজধানী ঢাকা ও জিরানী বাজার হয়ে সাভার-নবীনগর সড়কে উঠে বিভিন্ন গন্তব্যে সহজেই যাতায়াত করতে পারবে। তাছাড়া শিল্পনগরী কোনাবাড়ী এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক এড়িয়ে এই সড়ক ব্যবহার করলে লোকজনের পক্ষে সহজেই গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গাজীপুর মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পয়েন্ট চান্দনা চৌরাস্তার অল্প পশ্চিমে ঢাকা বাইপাস সড়কের নাওজোর থেকে পশ্চিম অভিমুখী সড়কটি কাশিমপুর হয়ে সাভার-নবীনগর সড়কের জিরানী বাজারে গিয়ে মিশেছে। নাওজোর থেকে জিরানী বাজার পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ কিলোমিটার। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের জাইকা প্রজেক্টের আওতায় সড়কটির উন্নয়ন ও ভাঙা ব্রিজ পর্যন্ত দুই কিলোমিটার ইতিমধ্যে পাকা করা হয়েছে। তবে পথিমধ্যে সড়কটির ভাঙা ব্রিজ-সংলগ্ন ফেউচারগাড়া বিলে এবং তুরাগ নদে কোনো সেতু না থাকায় সড়কটি দিয়ে সরাসরি মানুষ বা যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন যাবত্ দাবি করে এলেও গুরুত্বপূর্ণ দুটি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে না। সেতু দুটির অভাবে সড়ক থাকা সত্ত্বেও এলাকাবাসী কোনো সুফল পাচ্ছে না। এ কারণে কাশিমপুর ও অনান্য স্থান থেকে মানুষ নৌকাযোগে ভাঙা ব্রিজ পর্যন্ত এসে সেখান থেকে জেলা শহরসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করে থাকে। অথচ ফেউচারগাড়া বিলে ১৫০ মিটার দীর্ঘ এবং তুরাগ নদে ৪০০ মিটার দীর্ঘ দুটি সেতু নির্মাণ করা হলে এলাকাবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হতো না। বরং এতে সড়কটির গুরুত্ব যেমন বৃদ্ধি পেত, তেমনি এই সড়ক হয়ে উঠত হাজার হাজার মানুষের সহজ যাতায়াতের মাধ্যম।
নদী বাঁচাও আন্দোলনের গাজীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক মিয়া অবিলম্বে সেতু দুটি নির্মাণের জন্য গাজীপুর সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন। কাশিমপুর এলাকার বাসিন্দা গাজীপুর জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান জানান, এ সেতু দুটি নির্মিত হলে এলাকাবাসী জেলা শহরে স্বল্প সময়ে যাতায়াত করতে পারবে।
এ ব্যাপারে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মজিবুর রহমান জানান, করপোরেশনের পক্ষ থেকে জাইকা প্রজেক্টের আওতায় সেতু দুটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছরেই সেতু দুটির নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।