অস্পষ্টতা থাকায় দুদকের প্রতিবেদন গ্রহণ করেনি হাইকোর্ট

১৮ কোটি টাকা আত্মসাত্ মামলার তদন্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত ১১ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে দুদক। কারণ দর্শানো নোটিশের সন্তোষজনক জবাব দাখিলে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এসব মামলা করা হয়েছে। কিন্তু নাম ও কী অভিযোগে এসব মামলা করা হয়েছে, তা উল্লেখ না থাকায় দাখিলকৃত এই প্রতিবেদন গ্রহণ করেনি হাইকোর্ট। আগামী বুধবার এসব তথ্য উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করতে দুদককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এই আদেশ দেন। আদালত বলেন, ‘এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগে ব্যবস্থা নিয়েছেন এবং তাদের নামের তালিকার কোনো তথ্য এই প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে না। আমরা দেখতে চাই, কর্মকর্তাদের কার দায় কতটুকু। কিন্তু কোনো কিছুই প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। এটা একটা অস্পষ্ট প্রতিবেদন।’ আদালত বলেন, সর্ষের মধ্যে ভূত থাকা উচিত নয়। সর্ষের মধ্যে সর্ষেই থাকতে হবে।

এর আগে দুদকের কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান হাইকোর্টে দুদকের দেওয়া প্রতিবেদন তুলে ধরেন। এতে বলা হয়, অর্থ আত্মসাতের ছয়টি মামলা অধিকতর তদন্তাধীন রয়েছে। ২৭টি মামলা অধিকতর তদন্তের জন্য কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া জাহালম ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ব্যবহূত আবু সালেকের ছবি সত্যায়িত করে এ বিষয়ে অধিকতর তদন্তাধীন মামলাসমূহের সর্বশেষ অবস্থার তথ্য দাখিল করতে তদন্ত কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। আদালত বলেন, যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন তাদের তালিকা কোথায়? দুদকের কৌঁসুলি বলেন, আপনারা তালিকা চাইলে দেওয়া হবে। ব্র্যাক ব্যাংকের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট এম আসাদুজ্জামান বলেন, ব্যাংকের যারা জড়িত ছিলেন, তাদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। আদালত বলেন, ব্যাংকেরও তো দায় রয়েছে। আইনজীবী বলেন, ব্যাংকের দায় আসবে না।