তিন কিংবদন্তি ক্রিকেটার ব্রায়ান লারা, ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যান ও হানিফ মোহাম্মদের রেকর্ডে ভাগ বসালেন ভারতীয় তরুণ চিন্ময় সুতার। ভারতের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নাগাল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে মিজোরাম ৯ উইকেটে ৫৮১ রানের পাহাড় গড়ে।
তিন নম্বর পজিশনে ব্যাট করতে নেমে ৫১৭ বল মোকাবিলা করে ৪৬টি চার আর ৭টি ছক্কার সাহায্যে ৪০০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন সুতার।
রঞ্জি ট্রফির ইতিহাসে দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে সুতার ৪০০ রান করলেন এক ইনিংসে। বিশ্বের দশম ব্যাটসম্যান হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন তিনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) নাগাল্যান্ডের সোভিমায় রঞ্জি ট্রফির প্লেট গ্রুপের ম্যাচে চিন্ময়ের ব্যাটে ভর করে প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেটে ৫৮১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে মিজোরাম। ৫১৭ বলের ইনিংসে ৪৬টি চার ও ৭টি ছক্কা মারেন চিন্ময়। তার ব্যাটেই ম্যাচের প্রথম দিন থেকে দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায় মিজোরাম।
শেষ উইকেটে লালরেমপুইয়া চাকচুয়াককে নিয়ে অবিচ্ছিন্ন ১৮৯ রানের জুটি গড়েন চিন্ময়। এই জুটিতে তার অবদান ১৬৯ রান। ১১ নম্বরে ব্যাট করতে নামা চাকচুয়াক ৭৬ বল খেলে অপরাজিত থাকেন ১৪ রানে। নবম উইকেটের পতনের সময় চিন্ময়ের রান ছিল ২৩১। এরপর শেষ উইকেটে আরও ১৬৯ রান যোগ করে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেন তিনি।
রঞ্জি ট্রফিতে এর আগে এক ইনিংসে ৪০০ রানের বেশি করেছিলেন কেবল বিনু? না, সেই কীর্তি গড়েছিলেন মহারাষ্ট্রের বিবি নিম্বালকর। ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে কাথিয়াওয়ারের বিপক্ষে অপরাজিত ৪৪৩ রান করেছিলেন তিনি। দীর্ঘ ৭৮ বছর পর এবার সেই তালিকায় নাম লেখালেন চিন্ময়। রঞ্জি ট্রফিতে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড অবশ্য এখনো নিম্বালকরের দখলেই।
মুম্বাইয়ের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতা আছে চিন্ময়ের। চলতি বছর বিজয় হাজারে ট্রফিতে মুম্বাইয়ের হয়ে খেলেছিলেন তিনি। পরে মিজোরামে যোগ দিয়ে এই মৌসুমেই রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেক হয় তার। অভিষেক ম্যাচে মণিপুরের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৩৫ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৯ রানে আউট হন। এবার নিজের দ্বিতীয় প্রথম শ্রেণির ম্যাচেই ৪০০ রানের অনন্য কীর্তি গড়লেন এই ব্যাটার।
বিশ্বের দশম ক্রিকেটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৪০০ রানের ইনিংস খেললেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক অধিনায়ক ব্রায়ান লারা এবং অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার ডব্লিউএইচ পনসফোর্ড দুইবার করে এই কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।
লারা ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে ডারহামের বিরুদ্ধে ১৯৯৪ সালে ৫০১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এছাড়া ২০০৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে অপরাজিত ৪০০ রান করেন। পনসফোর্ড ১৯২৭ সালে ভিক্টোরিয়ার হয়ে কুইন্সল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৪৩৭ এবং ১৯২৩ সালে তাসমানিয়ার বিরুদ্ধে ৪২৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।