বিপর্যয় সামলে বাভুমার রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরি

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বৃষ্টিবিঘ্নিত দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসেও শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। মাত্র ১১০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ দেখান অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। মার্কো জানসেনকে সঙ্গে নিয়ে সপ্তম উইকেটে ১৩২ রানের জুটি গড়ে দলকে বিপর্যয় থেকে টেনে তোলার পাশাপাশি তুলে নেন রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরি।

গেবেরহায় সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে মুখোমুখি হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া। এই ম্যাচে সেঞ্চুরি করে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম অধিনায়ক হিসেবে লাল বলের ক্রিকেটে অনন্য কীর্তি গড়েছেন বাভুমা। এর আগে ১৯৯২ সালে একই ভেন্যুতে ভারতের বিপক্ষে কেপলার ওয়েসেলসের করা ৯২ রান ছিল প্রোটিয়া অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।

অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের বলে ডিপ মিডউইকেট দিয়ে চার মেরে ২২৬ বলে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন বাভুমা। তার এই ইনিংসে একদিকে যেমন দলের বিপর্যয় সামাল দেওয়ার বার্তা মিলেছে, অন্যদিকে তেমনি দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসেও যুক্ত হয়েছে নতুন এক অধ্যায়।

টেস্ট ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পথে প্রোটিয়া অধিনায়ক ১১টি চার ও ১টি ছক্কা মেরেছেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি তার প্রথম সেঞ্চুরি এবং অধিনায়ক হিসেবে ফরম্যাটটিতে চতুর্থ। এর আগে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দারুণ দৃঢ়তায় সেঞ্চুরি পথে ছিলেন জানসেনও। কিন্তু ১০০ বলে ৯ চার ও ৩ ছক্কায় ৮৫ রান করে তিনি স্কট বোল্যান্ডের বলে আউট হয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আফ্রিকার অষ্টম ব্যাটার হিসেবে নেমে টেস্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করলেন জানসেন। এর আগে ১৯৯৮ সালে ব্রায়ান ম্যাকমিলানের করা ৮৭ রান সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত। সেই ম্যাচ ছিল অজিদের মাঠ অ্যাডিলেডে। এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগপর্যন্ত গবেরহা টেস্টের প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৩০৬ রান। বাভুমা ১২২ এবং সিমন হারমার ২১ রানে অপরাজিত আছেন।

এদিকে, এই টেস্টে যার খেলা নিয়ে অজিদের দোদুল্যমান দশা ছিল, সেই স্কট বোল্যান্ডই ধসিয়ে দিয়েছেন প্রোটিয়াদের ব্যাটিং টপঅর্ডার। ২৫ ওভারে ৬৩ রানের বিনিময়ে তিনি এখন পর্যন্ত ৫ উইকেট নিয়েছেন। যা তার টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফাইফার। দ্বিতীয় অজি বোলার হিসেবে তিনি গবেরহায় টেস্টে ৫ উইকেট শিকার করলেন, ১৯৯৭ সালে প্রথমবার একই কীর্তি গড়েছিলেন জেসন গিলেস্পি (৫৪/৫)।

এ ছাড়া টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় বয়োজ্যষ্ঠ (৩৭ বছর ১৯০ দিন) পেসার হিসেবে ফাইফার পেয়েছেন বোল্যান্ড। ১৯০৯ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফ্র্যাঙ্ক লেভার ৩৯ বছর ২৩১ দিন বয়সে ৮ ‍উইকেট নিয়েছিলেন।