আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুতগতির বোলারদের একজন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ফাস্ট বোলার ব্রেট লি। ২০০৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘণ্টায় ১৬০.৮ কিলোমিটার গতিতে বল করেছিলেন তিনি। আধুনিক ক্রিকেটে নিয়মিত ১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করতে পারেন, এমন বোলারের সংখ্যা খুবই কম। যা নিয়ে চিন্তিত সাবেক এই অজি পেসার।
ব্রেট লির ধারণ, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বিপুল অর্থ আর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের হিসাব কষতে গিয়ে পেসাররা হয়তো নিজেদের গতির লাগাম টেনে ধরছেন। যার কারণে এখন নিয়মিত ১৫০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতিতে বল করতে পারেন, এমন বোলারের সংখ্যা কম।
উইজডেনের ‘স্কুপ এক্সটেন্ডেড’ অনুষ্ঠানে ব্রেট লি বলেন, ‘আমি চাই বোলাররা ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতির সীমাকে চ্যালেঞ্জ করুক। কিন্তু এখন তেমনটা দেখছি না। তরুণ ফাস্ট বোলারদের দৌড়ে এসে প্রচণ্ড গতিতে আগুনে সব বল করতে দেখতে চাই আমি।’
বর্তমানের পেসারদের গতির সঙ্গে আপোস করার পেছনে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বিস্তার ও আর্থিক লাভের হিসাব ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন ব্রেট লি। তিনি বলেন, ‘বোলাররা কি এখন দীর্ঘ মেয়াদে খেলার কথা ভাবছেন, ক্যারিয়ার কত দিন টিকবে, সেটা নিয়ে চিন্তা করছেন? তারা কি ভাবছেন, বিশ্বের সাত-আটটি আলাদা ফ্র্যাঞ্চাইজিতে খেলার সুযোগ পাবেন, সেখান থেকে মোটা অঙ্কের অর্থও আয় করবেন? এভাবে হয়তো ১৫-২০ বছর, কিংবা অন্তত ১০ বছর খেলতে পারবেন এবং বাকি জীবনের জন্য আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন?’
নিজের উদ্বেগের কারণটিও ব্যাখ্যা করে সাবেক অজি পেসার বলেন, ‘এভাবে খেলতে হলে আপনাকে ক্রিকেট মাঠে টিকে থাকতে হবে। আর মাঠে টিকে থাকতে গেলে হয়তো ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করার বিষয়টি তাদের আর রোমাঞ্চিত করে না। হয়তো তারা ঘণ্টায় ১৩৫ থেকে ১৪০ কিলোমিটার গতির মাঝামাঝি একটা নিরাপদ জায়গায় থাকতে চায়। এতে শরীরের ওপর চাপও কম পড়ে।’
ব্রেট লি বলেন, ‘আমার কাছে এটা উদ্বেগের বিষয়। কারণ, আপনি তো দেখতে চান বোলাররা দৌড়ে এসে দ্রুতগতিতে বল করছে।’
