দেশে আশঙ্কাজনকভাবে ধর্ষণ ও গণধর্ষণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীতে নার্সকে হত্যার পর বস্তাবন্দি করে লাশ গুমের চেষ্টা, মাদারীপুরে ট্রলার থেকে তুলে নিয়ে দুই মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে নৃত্যশিল্পীকে গণধর্ষণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পরিষদের নেতৃবৃন্দ। তারা এসব হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতার, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
গতকাল বুধবার মহিলা পরিষদের এক বিবৃতিতে তারা এ উদ্বেগের কথা জানান। গত ২১ আগস্ট বিভিন্ন পত্রিকায় কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীতে নিখোঁজ নার্সের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের ঘটনার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। নির্যাতনের শিকার বিলকিসের স্বামী জানান, বিলকিস শহরের ডক্টরস ল্যাব অ্যান্ড প্রাইভেট হাসপাতালের নার্স হিসাবে কর্মরত ছিলেন। গত ১৭ আগস্ট নিখোঁজ হওয়ার পর ২০ আগস্ট উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর বাঁশের সাঁকো সংলগ্ন এলাকা থেকে বিলকিসের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করা হয়। কেউ যেন লাশ শনাক্ত করতে না পারে সেজন্য দুর্বৃত্তরা বিলকিসের মুখ ঝলসে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
একই দিনে মাদারীপুরে ট্রলার থেকে তুলে নিয়ে দুই মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। মাদারীপুর শহর থেকে ১৯ আগস্ট ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী ট্রলারে পাঁচখোলা ইউনিয়নে যাচ্ছিল। সঙ্গে আর কেউ না থাকায়, সুযোগ বুঝে কালিয়াপুরে ট্রলার থামিয়ে দুই ছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে বখাটেরা।
২১ আগস্ট বিভিন্ন পত্রিকায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের ঘটনার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। গত ১৯ আগস্ট মঞ্চে অনুষ্ঠান করার কথা বলে এক নৃত্যশিল্পীকে দলবেধে ধর্ষণ করে পাঁচ যুবক।
ঘটনাগুলোর সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতার, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ শাস্তি, ঘটনার শিকার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। সেই সাথে হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধির কারণ উদ্ঘাটনসহ সরকারের নিকট এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণসহ সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।