বগুড়ার ধুনট উপজেলায় প্রতিবেশীর হামলা থেকে স্বামীকে রক্ষা করতে গিয়ে পেটে লাথির শিকার হয়ে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর গর্ভের সন্তান নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মজনু মিয়াসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারীর স্বামী কৃষক শাহ আলী ফকির।
শুক্রবার দুপুরে ধুনট থানায় এই অভিযোগ করা হয়। অভিযুক্ত শাহ আলী ফকির উপজেলার দিদারপাড়া গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাঙ্গামাটি গ্রামের হবিবর রহমানের ছেলে মজনু মিয়ার বিরুদ্ধে এক প্রতিবেশী নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হলে মজনু এটিকে গুজব বলে দাবি করেন এবং এর জন্য শাহ আলীকে দায়ী করেন। এরই জেরে গত ১৯ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শাহ আলীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন মজনু মিয়া। শাহ আলী এর প্রতিবাদ করলে মজনু ও তার লোকজন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান।
এ সময় স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে যান তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ মেরিনা খাতুন (৪৫)। অভিযোগ অনুযায়ী, সংঘর্ষের একপর্যায়ে হামলাকারীরা ওই গৃহবধূর পেটে সজোরে লাথি মারেন, যার ফলে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে প্রথমে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অবস্থার অবনতি হলে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অন্তঃসত্ত্বা মেরিনা খাতুনের গর্ভপাত হয়।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মজনু মিয়া ও তার সহযোগীরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, গৃহবধূর স্বামীর দেওয়া লিখিত অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে একজন উপপরিদর্শককে (এসআই) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।