মধুতে এমন কী আছে, যা সহজে নষ্ট হতে দেয় না

মধু এমন এক প্রাকৃতিক খাবার, যা সঠিকভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হলে দীর্ঘদিন ভালো থাকতে পারে। দুধ, ফল কিংবা রান্না করা খাবারের মতো মধু সহজে নষ্ট হয় না। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কী এর নেপথ্যে কোর রহস্য কাজ করে? মধুর মধ্যে এমন কী বৈশিষ্ট্য আছে, যার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে তা খাওয়ার উপযোগী থাকে?

মধুর দীর্ঘস্থায়িত্বের প্রধান কারণ এর উচ্চ চিনির পরিমাণ এবং খুব কম সক্রিয় জলীয় উপাদান। মৌমাছি ফুল থেকে মধুরস সংগ্রহ করার পর চাকের মধ্যে তা জমা করে। এরপর ডানা ঝাপটে বাতাস চলাচলের মাধ্যমে অতিরিক্ত জলীয় অংশ বাষ্পীভূত করতে সাহায্য করে। মৌমাছির শরীর থেকে নিঃসৃত কিছু উৎসেচকও মধুর রাসায়নিক গঠনে পরিবর্তন আনে। এভাবে মধু ঘন ও চিনিসমৃদ্ধ হয়ে ওঠে।

মধুতে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের মতো সরল চিনির পরিমাণ বেশি। কিন্তু জীবাণুর বংশবৃদ্ধির জন্য শুধু খাবার থাকলেই হয় না, পর্যাপ্ত পানিও প্রয়োজন। মধুতে মোট জলীয় অংশের পরিমাণ তুলনামূলক কম, আর তার মধ্যে থাকা পানিও বেশির ভাগ জীবাণুর ব্যবহারের উপযোগী অবস্থায় থাকে না। ফলে অনেক ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট ও ছত্রাক সহজে বৃদ্ধি পেতে পারে না।

মধু সাধারণত অম্লীয় প্রকৃতির। মৌমাছির উৎসেচকের ক্রিয়ায় তৈরি গ্লুকোনিক অ্যাসিডসহ বিভিন্ন জৈব অ্যাসিড এর অম্লীয় বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী। এই পরিবেশও কিছু জীবাণুর বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করতে পারে। মধুতে থাকা নির্দিষ্ট উৎসেচক থেকে পানি মেশার পর হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড তৈরি হয়, যার জীবাণুরোধী প্রভাব রয়েছে। তবে মধু দীর্ঘদিন ভালো থাকার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এর কম জলীয় সক্রিয়তা। শুধু অম্লীয় বৈশিষ্ট্য বা জীবাণুরোধী উপাদানের ওপর নির্ভর করে মধুকে নিরাপদ বলা যায় না।

মধু দীর্ঘদিন ভালো থাকতে পারে, কিন্তু একেবারে কখনও নষ্ট হয় না- এমন ধারণা ঠিক নয়। মধুতে অতিরিক্ত জল মিশে গেলে বা আর্দ্রতা ঢুকলে ইস্টের বৃদ্ধি ও গাঁজনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে ভেজা চামচ ব্যবহার করা বা পাত্র খোলা রেখে দিলে মধুর গুণমান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই মধু সব সময় পরিষ্কার, শুকনো ও বায়ুরোধী পাত্রে রাখা উচিত।

মধু জমে দানাদার হয়ে গেলেও তা সব সময় নষ্ট হওয়ার লক্ষণ নয়। প্রাকৃতিকভাবে মধুর কিছু চিনি স্ফটিক আকার ধারণ করলে এমন হতে পারে। তবে অস্বাভাবিক গন্ধ, ফেনা বা গাঁজনের লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এক বছরের কম বয়সি শিশুকে মধু খাওয়ানো উচিত নয়। মধুতে থাকা ক্লস্ট্রিডিয়াম বটুলিনাম ব্যাকটেরিয়ার স্পোর শিশুর অন্ত্রে বৃদ্ধি পেয়ে গুরুতর অসুস্থতা ঘটাতে পারে।

 

তথ্যসূত্র: ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) এবং ফ্রন্টিয়ার্স ইন নিউট্রিশন।