পারিবারিক কুলদেবতার মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন একই পরিবারের পাঁচ সদস্যসহ মোট ছয়জন। ভারতের রাজস্থানের চুরু জেলায় চলন্ত কিংবা দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে দ্রুতগতির প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ধাক্কা দিলে এই রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা ঘটে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় পরিবারের একমাত্র সদস্য হিসেবে গুরুতর আহত অবস্থায় অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে এক কন্যাশিশু।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) চুরু জেলার সাদুলপুর এলাকার নিয়াগলি গ্রামের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।
নিহতরা হলেন—ভঁবর লাল শর্মা (৬০), তার স্ত্রী মহেন্দ্র দেবী (৫৫), তাদের দুই পুত্রবধূ কবিতা (২৮) ও যশোদা (৩৪), যশোদার চার মাস বয়সী পুত্রসন্তান এবং গাড়িটির চালক মাঙ্গিলাল নাই (৩১)। একমাত্র জীবিত উদ্ধার হওয়া শিশুটি যশোদারই আরেক সন্তান (কন্যাশিশু)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তারানগরের সোমসিসার গ্রামের বাসিন্দা শর্মা পরিবারের সদস্যরা গাড়ি নিয়ে গোগামেড়িতে অবস্থিত তাদের পারিবারিক কুলদেবতার মন্দিরে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে নিয়াগলি গ্রামের কাছে পৌঁছালে তাদের দ্রুতগতির গাড়িটি সামনে থাকা একটি ট্রাক-ট্রলির পেছনে প্রচণ্ড শক্তিতে আছড়ে পড়ে। ধাক্কার অভিঘাতে গাড়িটির সামনের অংশ (বনেট) সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায়।
সাদুলপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সত্যপ্রকাশ জাঙ্গিদ জানান, ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চার মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ছয়ে। অন্যদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে বেঁচে যাওয়া অপর এক শিশু।
দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং দুমড়েমুচড়ে যাওয়া গাড়ি থেকে হতাহতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালান। একই সঙ্গে তারা পুলিশে খবর দেন। দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকচালক নিজের বাহন নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রিচপাল সিং এবং সাদুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) রাজেশ কুমার সিহাগের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় সরকারি সাব-ডিস্ট্রিক্ট হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত চলমান রয়েছে।