নিয়মিত বেতন পরিশোধ না করায় কুয়েতে ৮৮৪৯ কোম্পানির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ

কর্মীদের নিয়মিত বেতন পরিশোধ না করাসহ বিভিন্ন আর্থিক জটিলতায় জড়িত থাকার দায়ে পাঁচ বা ততোধিক শ্রমিক রয়েছে—এমন ৮ হাজার ৮৪৯টি প্রতিষ্ঠানের ফাইল আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করেছে কুয়েতের পাবলিক অথরিটি ফর ম্যানপাওয়ার (প্যাম)। একই ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত থাকা ৩৯ হাজার ৫৫৯টি প্রতিষ্ঠান সরকারি নীতিমালা মেনে সময়মতো বেতন পরিশোধ করায় সেগুলোকে নিয়মনিষ্ঠ বা কমপ্লায়েন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা যায়, প্যামের ডিজিটাল মজুরি পর্যবেক্ষণ বা ওয়েজ-পেমেন্ট মনিটরিং সিস্টেমে বর্তমানে সর্বমোট নিবন্ধিত ফাইলের সংখ্যা ১ লাখ ২৫২টি। এর মধ্যে পাঁচজনের কম কর্মী রয়েছে এমন ক্ষুদ্র ব্যবসা বা নিয়োগকর্তাদের ফাইলের সংখ্যা ৫১ হাজার ৮৪৪টি। অন্যদিকে পাঁচ বা তার বেশি কর্মী রয়েছে এমন মাঝারি ও বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের মোট ফাইল সংখ্যা ৪৮ হাজার ৪০৮টি; যার মধ্যে থেকেই ৮ হাজার ৮৪৯টি প্রতিষ্ঠানের ফাইলে বেতন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এদিকে কর্মীদের বেতন থেকে অর্থ কাটার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়ে সর্বোচ্চ ১৩টি সুনির্দিষ্ট ও বৈধ কারণ নির্ধারণ করে দিয়েছে প্যাম। এগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশে বা বিদেশে কাটানো অবৈতনিক ছুটি (আনপেইড লিভ), সন্তান প্রতিপালনের ছুটি (চাইল্ডকেয়ার লিভ), অসুস্থতাজনিত ছুটি (সিক লিভ), আংশিক বেতনভুক্ত ছুটি, সাময়িক বরখাস্ত বা সাসপেনশন, কর্মক্ষেত্র থেকে অনুমতি ছাড়া প্রস্থান, কাজ করতে অস্বীকৃতি জানানো এবং নোটিশ ছাড়া অনুপস্থিতিসহ কর্মীদের পেশাগত মর্যাদাসংক্রান্ত অন্যান্য বৈধ কারণ।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো কর্মীর বেতন থেকে অর্থ কর্তন করতে হলে সেই পদক্ষেপের আইনগত যৌক্তিকতা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ও বৈধ নথিপত্র কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এ ছাড়া কর্মীদের আর্থিক সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দিয়ে প্যাম স্পষ্ট করেছে, কোনো অবস্থাতেই এক মাসে কোনো কর্মীর মূল বেতনের ২৫ শতাংশের বেশি অর্থ কাটা যাবে না। এই সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কর্তনের ক্ষেত্রেও কর্তনের বৈধতা নিশ্চিতকারী সুনির্দিষ্ট নথিপত্র সংযুক্ত করা আবশ্যক।