ফ্রেমে বন্দি স্বপ্ন: পথচলা থেকে বিশ্বমঞ্চে আশরাফুল ইসলাম শিমুল

ছোটবেলা থেকেই ভ্রমণের প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল আশরাফুল ইসলাম শিমুলের। তিনি দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়াতেন। বাংলার সুন্দর রূপ দেখে তিনি মুগ্ধ হতেন। সেই সৌন্দর্য ধরে রাখার তাগিদ তৈরি হয়। তিনি ফটোগ্রাফি সম্পর্কে জানতে শুরু করেন। ছবি তোলার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ জন্ম নেয়। প্যাশনের পাশাপাশি পেশাগত জীবনেও তিনি এই ফটোগ্রাফিকে বেছে নেন।

২০১৬ সালে নোয়াখালীতে তার নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) এই স্বপ্নযাত্রার সূচনা হয়। শিমুল একজন ট্রাভেল ফটোগ্রাফার ও ফিল্মমেকার। প্রকৃতির রূপ এবং মানুষের জীবন তার কাজের প্রধান বিষয়। তিনি প্রতিটি ফ্রেমে একটি সুন্দর গল্প ফুটিয়ে তোলেন।

এক যুগের পথচলা ও ৬৪ জেলার অভিজ্ঞতা

দীর্ঘ এক যুগ ধরে শিমুল কাজ করছেন। তিনি বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় ঘুরেছেন। তিনি অসংখ্য ছবি তুলেছেন। তিনি বহু মনোরম ভিডিও তৈরি করেছেন। দেশের রূপ ও মানুষের জীবনকে তিনি ক্যামেরায় বন্দি করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আজ বহু মানুষ তাঁকে এক নামেই চেনে। শিমুলের ছবি দেখে দেশের বহু তরুণ প্রতিদিন অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। তিনি নবীনদের কাজ শিখতে সাহায্য করেন। তরুণদের এই ভালোবাসা তিনি ভীষণ উপভোগ করেন।

সফল উদ্যোক্তা ও বড় বড় ব্র্যান্ডের সাথে কাজ

ছবি তোলার পাশাপাশি শিমুল চমৎকার ব্যবসা পরিচালনা করছেন। বিজনেসে তিনি দারুণ সাড়া পাচ্ছেন। বর্তমানে তার দুটি নিজস্ব ফার্ম রয়েছে। ফার্ম দুটির নাম ‘পালকি’ এবং ‘পালকি ক্রিয়েশন’। ‘পালকি’ দিয়ে তিনি ওয়েডিং ফটোগ্রাফির সার্ভিস দিয়ে থাকেন। ‘পালকি ক্রিয়েশন’ এর মাধ্যমে তিনি বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট সার্ভিস দেন।

ইতোমধ্যে বহু বিখ্যাত ব্র্যান্ডের সাথে শিমুল কাজ করেছেন। সনি এবং গ্রামীণফোনের মতো বিশ্বমানের ব্র্যান্ডের সাথে তিনি কোলাবোরেশন করেছেন। অপো, ভিভো ও ব্র্যাকের মতো প্রতিষ্ঠানের ভিজ্যুয়াল কাজ তিনি করছেন। এমনকি বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের মতো মর্যাদাপূর্ণ ব্র্যান্ডের সাথেও তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।

১৬০-এর বেশি সম্মাননা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

ফটোগ্রাফিতে শিমুলের অর্জন অসামান্য। তিনি এ পর্যন্ত ১৬০-এর বেশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। বিশ্বের বড় বড় বিখ্যাত ম্যাগাজিনে তার তোলা ছবি নিয়মিত ছাপা হচ্ছে। দেশি-বিদেশি নামীদামী পত্রিকায় তার কাজ প্রকাশ পেয়েছে। এমনকি বাংলাদেশের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের পাঠ্যবইয়ে তার ছবি ছাপা হয়েছে। এছাড়া তিনি বেশ কিছু ফটোগ্রাফি প্রদর্শনীতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেখানে তিনি নতুন আলোকচিত্রীদের কাজ মূল্যায়ন করেছেন এবং উৎসাহিত করেছেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও লালিত স্বপ্ন

শিমুল নিজের লক্ষ্য নিয়ে অনেক দূর এগোতে চান। তিনি ফটোগ্রাফির মাধ্যমে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করতে চান। বিশ্বের মঞ্চে তিনি বাংলাদেশকে আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে চান। পৃথিবীর প্রতিটি দেশ দেখার প্রবল ইচ্ছে রয়েছে তার। এছাড়া তিনি ফটোগ্রাফির ওপর উচ্চতর পড়াশোনা করতে চান। ভবিষ্যতে তিনি একটি বড় প্রতিষ্ঠান বা একাডেমি গড়ে তুলতে চান। সেই প্রতিষ্ঠানে সবাই বিনামূল্যে বা সহজে কাজ শিখতে পারবে। সেখানে সবাই ছবি তোলা নিয়ে জানতে পারবে এবং আলোচনা করতে পারবে।