চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে প্রক্টর অফিসের পূর্বানুমতি ছাড়া সব ধরনের ড্রোন ক্যামেরা উড্ডয়ন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ছাত্রীদের আবাসিক হলের ওপর ড্রোন ওড়ানোর অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. কামরুল হোসেনের সই করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কয়েকজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় অনুমতি ছাড়া ড্রোন উড়িয়ে ভিডিও চিত্র ধারণ করেন। একপর্যায়ে ছাত্রীদের আবাসিক হলের ওপর দিয়েও ড্রোন ওড়ানো হয় এবং ভেতরের দৃশ্য ধারণ করা হয়। এতে ছাত্রীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয় এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে প্রশাসনের কাছে তীব্র আপত্তি জানান তাঁরা। বিষয়টি নজরে আসার পরই প্রশাসন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিধিনিষেধ আরোপ করে।
প্রক্টর কার্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা প্রায়ই অনুমোদন ছাড়া ড্রোন ক্যামেরা ওড়াচ্ছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছাত্রীদের আবাসিক হল এলাকায়ও ড্রোন ওড়ানোর ঘটনা ঘটেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং ছাত্রীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ ও উদ্বেগজনক।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ক্যাম্পাসের সার্বিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার স্বার্থে এখন থেকে প্রক্টর অফিসের পূর্বানুমোদন ছাড়া যে কোনো ধরনের ড্রোন উড্ডয়ন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। তবে বিশেষ প্রয়োজনে কাউকে ড্রোন ওড়াতে হলে প্রক্টর কার্যালয়ের লিখিত অনুমতির পাশাপাশি সরকারি সংশ্লিষ্ট সকল বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। এই নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিধি এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কানন বলেন, আবাসিক হলের ওপর ড্রোন ওড়ানোর বিষয়ে ছাত্রীদের কাছ থেকে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি জানার পরই নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এখন থেকে নিয়ম অমান্য করে কেউ ড্রোন উড়ালে তাকে শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে গণ্য করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।