প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে এক নারীর কাছে ভারতের প্রতিরক্ষাবিষয়ক সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগে দেশটির সেনাবাহিনীর সাবেক এক ক্যাপ্টেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাবু নামের ৫২ বছর বয়সী ওই কর্মকর্তাকে তামিলনাড়ুর ভেলোর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার (ডিআরডিও) সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা এক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে তিনি ওই নারীকে প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ওই নারী এসব তথ্য অন্য কারও কাছে পাঠিয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি তদন্তকারীরা।
পুলিশের সন্দেহ, ভারতের সামরিক বাহিনীর সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ওই নারী প্রেমের সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে থাকতে পারেন। তার পরিচয়, জাতীয়তা এবং কোনো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এনডিটিভিকে পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য অন্য কারও সঙ্গে বিনিময়ের সুযোগ নেই। গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা এর আগে ডিআরডিওতে কাজ করেছেন।
ওই নারী পাকিস্তানের নাগরিক কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশের কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার পরিচয় শনাক্ত করতে হোয়াটসঅ্যাপের কাছে আইপি ঠিকানাসহ প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়া হবে। এসব তথ্য পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তামিলনাড়ুর তিরুভান্নামালাই জেলার আরানি এলাকায় তার অবস্থান শনাক্ত করেন তদন্তকারীরা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বাবু ভারতীয় সেনাবাহিনীর আর্টিলারি রেজিমেন্টে ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৪ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন। পরবর্তী সময়ে ডিআরডিওর সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা ছিল। সেখানে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি কী ধরনের তথ্যের সংস্পর্শে এসেছিলেন এবং সেসবের কোনো অংশ ওই নারীর কাছে পৌঁছেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারের পর বাবুকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল যোগাযোগের তথ্য পরীক্ষা করার কথা রয়েছে।
তদন্তকারীরা এখন ওই নারীর প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি তার কাছে পাঠানো তথ্যের ধরন ও পরিমাণ জানার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে কোনো বিদেশি গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।