ইয়েমেনে প্রায় চার বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে সুইডেনে জাতিসংঘ প্রস্তাবিত শান্তি আলোচনায় বন্দি বিনিময় চুক্তি সই হয়েছে। তবে এই আলোচনার মধ্যেই সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় জিজান প্রদেশে হুতি বিদ্রোহীদের তরফ থেকে ছয়বার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কথা জানা গেছে। এদিকে সুইডেনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সানা বিমানবন্দর পুনরায় পুরোপুরি খুলে দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হলে, হুতি বিদ্রোহীরা জাতিসংঘকে তা ব্যবহার করতে না দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
ইয়েমেন সংকট নিয়ে দুই বছরের মধ্যে প্রথম এ শান্তি আলোচনা শুরু হয় গত বৃহস্পতিবার। ইয়েমেন সরকার এবং হুতি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে আসা প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিয়েছেন। দুই পক্ষের অনানুষ্ঠানিক আলোচনা এক সপ্তাহ স্থায়ী করার লক্ষ্যে কাজ করছে বিশেষ জাতিসংঘ দূত মার্টিন গ্রিফিথ। মানব বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে থাকা ইয়েমেনে যুদ্ধাবসানে কয়েকবছরের মধ্যে শান্তি আলোচনার এ সূচনাকে আশার আলো বলে অভিহিত করেছেন গ্রিফিথ। সংঘাতে লিপ্ত সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসতে পারাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক আখ্যা দেন তিনি।
শান্তি আলোচনা এমন সময় হচ্ছে, যখন ইয়েমেনবাসী ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। ২০১৫ সালের মার্চে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরব মিত্রদের নিয়ে সামরিক অভিযান শুরু করার পর এ পর্যন্ত দেশটিতে বহু শিশুসহ লাখো মানুষ নিহত হয়েছে। সংঘাত বন্ধে গত কয়েক মাস ধরে একটি শান্তি আলোচনার চেষ্টা করে আসছে জাতিসংঘ। কিন্তু ২০১৬ সাল থেকে কোনো আলোচনাই হয়নি। জেনেভায় গত সেপ্টেম্বরে আলোচনার সর্বশেষ একটি চেষ্টাও হুতিদের অনুপস্থিতির কারণে ব্যর্থ হয়। এবারের আলোচনায় দু’পক্ষের মধ্যে আস্থা গড়ে তোলার পদক্ষেপ হিসাবে বন্দি বিনিময় চুক্তি সই হওয়াকে একটি ইতিবাচক লক্ষণ বলেই বর্ণনা করেছেন জাতিসংঘ দূত গ্রিফিথ। এ চুক্তির আওতায় কতজন বন্দি মুক্তি পাবে সে সংখ্যা সঠিকভাবে জানাতে না পারলেও গ্রিফিথ বলেছেন, এ পদক্ষেপে হাজার হাজার পরিবার উপকৃত হবে।
সুইডেনে শান্তি আলোচনার মধ্যেই সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় জিজান প্রদেশে ছয়বার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। ইয়েমেনের সৌদি জোটের বিমান হামলার জবাবে হুতি সমর্থিত সেনারা এসব ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে বলে দাবি করা হয়। ইয়েমেনি আল-মাসিরা টেলিভিশন জানিয়েছে, ছয়টি স্বল্প পাল্লার জিলজাল ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে জিজানে সমবেত সৌদি জোটের ওপর হামলা চালানো হয়। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সফলতার সঙ্গে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে এবং এতে অজ্ঞাতসংখ্যক শত্রু নিহত হয়েছে।