বছরের পর বছর ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোর লোকসানের কারণ খুঁজে বের করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। এর ভিত্তিতে চিনিকলগুলোর লোকসান কমিয়ে ধীরে ধীরে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য লক্ষ্যে একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী আখ মাড়াই মৌসুম থেকে এক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে চায় মন্ত্রণালয়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলে শিল্প মন্ত্রণালয়ে এক সভায় এ প্রসঙ্গে কথা বলেন শিল্প সচিব মো. আব্দুল হালিম। জাতীয় উত্পাদনশীলতা কার্যনির্বাহী কমিটির ঐ সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থা ও বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
শিল্পসচিব বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো লোকনাসি হওয়ার পেছনে কারণ চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে। এর আলোকে আসন্ন মাড়াই মৌসুমের জন্য কার্যকর কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাবে। চিনিকলগুলোর পাশাপাশি বিসিআইসি এবং বিএসইসিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কারখানাগুলোতে উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধি ও অনিয়ম দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো বছরের পর বছর ধরে লোকসান দিয়ে আসছে। অদক্ষতা, অনিয়ম ও দুর্নীতি এর পেছনে অন্যতম কারণ বলে মনে করা হয়। অতীতে বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও এক্ষেত্রে কার্যকর ফল মেলেনি।
সভায় জানানো হয়, উত্পাদনশীলতার উন্নয়নে তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করতে ২০২১ শিক্ষাবর্ষের জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে ‘উত্পাদনশীলতার ধারণা’ শীর্ষক অধ্যায় সংযোজন করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে এনপিও প্রণীত খসড়া কনটেন্ট ইতিমধ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) পাঠানো হয়েছে। এটি এসএসসি এবং দাখিল (ভোকেশনাল) পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সভায় ন্যাশনাল প্রোডাক্টিভিটি অ্যান্ড কোয়ালিটি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডের আওতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। একই প্রতিষ্ঠান যাতে বার বার এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত না হয়, সে লক্ষ্যে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের আবেদনে আগ্রহী করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে এনপিওকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। আবেদনের ফরম সরলীকরণের ব্যবস্থা নিতেও এনপিওর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।