সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়ে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ২০ জনের বেশি সদস্যকে হত্যার দাবি করেছে জর্ডান। সোমবার সন্ধ্যায় চালানো এসব হামলার কথা মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জানায় দেশটি। জর্ডানের একটি গির্জায় প্রাণঘাতী হামলার জবাবে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আম্মান। খবর আল আরাবিয়ার।
তবে জর্ডানের হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সিরিয়া। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনটি শিশু ও একজন নারী রয়েছেন। বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে জর্ডান। দেশটির সরকারি যোগাযোগমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-মুমানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান।
সোমবার জর্ডান জানায়, সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে জঙ্গিদের আস্তানা হিসেবে চিহ্নিত কয়েকটি স্থানে হামলা চালিয়েছে তাদের বিমানবাহিনী। গত সপ্তাহে জর্ডানের একটি গির্জায় হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওই অঞ্চলে সক্রিয় কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ থাকার তথ্য পাওয়ার পর এ অভিযান চালানো হয়।
জর্ডানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, গির্জায় হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুই ভাই ও তাদের ভগ্নিপতিকে গ্রেপ্তার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। ওই হামলায় নয়জন নিহত হন। এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে সিরিয়ায় হামলার লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তিরা আইএসের সদস্য বলে দাবি করেছে জর্ডান।
জর্ডানের সামরিক বাহিনীর ভাষ্য, দামেস্কের সঙ্গে সমন্বয় করেই বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তবে সিরিয়া সরকারের দাবি, তাদের সঙ্গে আগাম কোনো সমন্বয় না করেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরুর ঘোষণাও দিয়েছে দেশটি।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জর্ডানের হামলার নিন্দা জানিয়ে একে দেশটির সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। তবে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে জর্ডান ও সিরিয়া একটি যৌথ নিরাপত্তা কমিটি গঠনের পরিকল্পনা করছে।