দেশের পূর্বাঞ্চলের বড় একটি অংশে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড ট্রিপ করার কারণ উদ্ঘাটনে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পাওয়ার গ্রিড পিএলসি। ভবিষ্যৎ পুনরাবৃত্তি রোধে সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত এ কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে পাওয়ার গ্রিড কর্তৃপক্ষের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পাওয়ার গ্রিড পিএলসির সঞ্চালন-২ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সৈয়দ এবাদুল্লাহ হায়দার আলীকে এই তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মূল কারণ চিহ্নিত করার পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাস্তবমুখী পদক্ষেপের সুপারিশ করবে এই কমিটি।
এর আগে মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১টার দিকে আকস্মিকভাবে পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডে সমস্যা দেখা দিলে রাজধানী ঢাকার পূর্বাংশ এবং চট্টগ্রাম বিভাগের একটি বড় এলাকা একযোগে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর একে একে পুনরায় উৎপাদন শুরু করে কর্তৃপক্ষ, যার ধারাবাহিকতায় ধীরে ধীরে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
পাওয়ার গ্রিড পিএলসি জানিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রকৌশলীরা ধাপে ধাপে সংযোগ পুনঃস্থাপনের প্রক্রিয়া পরিচালনা করছেন। জাতীয় লোড ডেসপাস সেন্টারের (এনএলডিসি) সার্বিক নিয়ন্ত্রণে গ্রিড পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে, এই বিভ্রাটের প্রভাব উত্তরাঞ্চলসহ দেশের অপরাপর অংশে পড়েনি এবং সেখানকার বিদ্যুৎ সঞ্চালন পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে।
বাংলাদেশে জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের বিপর্যয় এটাই প্রথম নয়। এর আগে ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর বেলা ২টা ৫ মিনিটে পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডে বিপর্যয় ঘটলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগসহ দেশের সিংহভাগ এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ৩ থেকে ৮ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় সারা দেশে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। তারও আগে ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর ভারতের বহরমপুর-ভেড়ামারা সঞ্চালন লাইনে ত্রুটির কারণে সংঘটিত জাতীয় বিপর্যয়ে প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল গোটা দেশ।