আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় বর্তমানে চার নম্বরে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। তাতে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার সুযোগ তৈরি হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের সামনে। বাংলাদেশের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা দেখছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি পেসার ও ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপও।
তার মতে, এবারের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। বিশপ বলেন, 'ফাইনালে যাবেই, এমনটা বলছি না। তবে সুযোগ রয়েছে। এবারই তারা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে সবচেয়ে ভালো করল। ফলে বাংলাদেশের গর্বিত হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে।'
বাংলাদেশের পেস আক্রমণের অন্যতম বড় শক্তি এখন নাহিদ রানা। তার গতি ও সামর্থ্য নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে আগ্রহ যেমন বাড়ছে, তেমনি বারবার চোটে পড়ায় তৈরি হয়েছে উদ্বেগও। বাংলাদেশের এই তরুণ পেসারকে নিয়ে আশাবাদী বিশপ। তিনি বিশ্বাস করেন, নাহিদ বিশ্ব ক্রিকেটের সম্ভাব্য সুপারস্টারদের একজন। তবে সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে তাড়াহুড়া না করে তাকে পুরোপুরি সুস্থ করে মাঠে ফেরাতে হবে। নাহিদের যত্ন নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশকে সতর্ক করে বিশপ বলেছেন, 'তার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। তাৎক্ষণিক সাফল্যের জন্য সেই সোনার ডিম পাড়া হাঁসটিকে মেরে ফেলবেন না।'
নাহিদের গতি তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে বলে মনে করেন কিংবদন্তি এই ক্রিকেটার। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন নতুন তরুণ পেসার উঠে এলেও গতির বিচারে নাহিদ তাদের অনেকের সমকক্ষ, এমনকি কাউকে কাউকে ছাড়িয়েও যেতে পারেন বলে তার ধারণা। অস্ট্রেলিয়ার বাউন্সি উইকেটে নাহিদকে দেখার অপেক্ষায় ছিলেন বিশপ। তবে সেখানে তাকে খেলতে না দেখে হতাশ হয়েছেন তিনি। অবশ্য এই হতাশার চেয়ে নাহিদের সুস্থ হয়ে ফেরাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন সাবেক এই ক্যারিবীয় পেসার। তিনি বলেন, 'নাহিদের জন্য এটি দুর্ভাগ্যজনক। কারণ, আমি বিশ্বাস করি, নাহিদ বিশ্ব ক্রিকেটের সম্ভাব্য সুপারস্টারদের একজন।'
তিনি আরও বলেন, 'অস্ট্রেলিয়ার বাউন্সি উইকেটে তাকে দেখার সম্ভাবনায় আমি রীতিমতো রোমাঞ্চিত ছিলাম। তাই সে খেলতে না পারায় আমি হতাশ হয়েছিলাম। তবে তার সুস্থতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।' ফাস্ট বোলিংয়ের ধকল শরীরের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, তা নিজের ক্যারিয়ার থেকেই জানেন বিশপ। তারও স্ট্রেস ফ্র্যাকচারের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই নাহিদকে সামলানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দলের কোচিং স্টাফ, মেডিক্যাল বিভাগের বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসা দলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।