ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইয়াশার পার্টির নেতা গাডি আইজেনকোটের সঙ্গে একটি ঐক্য সরকার গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ জামিনদার হিসেবে কাজ করবেন।
রোববার (১ নভেম্বর) ইসরায়েলের সরকারি ব্রডকাস্টার ক্যানের বরাতে দ্য নিউ আরব এই খবর জানিয়েছে।
নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ডিমোনার মেয়র বেনি বিটন রোববার সকালে একটি প্রত্যক্ষ সূত্রের ভিত্তিতে জানান, এটি কোনো প্রতারণা বা নির্বাচনী কৌশল নয়, বরং নেতানিয়াহু সত্যিই ঐক্য চান। লিকুদ দলের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘গতকাল আমি ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছি। আর খবর হলো: এই চুক্তির জন্য দুজন জামিনদার থাকবেন: হারজোগ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, যারা জনাব গাডি আইজেনকোটের পক্ষে জামিনদার হিসেবে কাজ করবেন।’
গত মঙ্গলবারের সংসদীয় নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় দুই কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রী ইতমার বেন-গভির এবং বেজালেল স্মোটরিচকে বাদ দিয়ে একটি জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের চিন্তাভাবনা চলছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পও এমন জোটকে সমর্থন করছেন বলে আগের সংবাদ মাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ সব পক্ষকে নমনীয় হওয়ার এবং আরেকটি নির্বাচন এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বিটন বিরোধী দলের নেতাদের আলোচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমি ব্যতিক্রম ছাড়া সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—গাডি আইজেনকোট, অবিগডোর লিবারম্যান এবং নাফতালি বেনেট—তাদের অহংকার সরিয়ে রাখতে। নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হয়েছে; একসঙ্গে আসুন, টেবিলে বসুন এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছান।’
একতরফাভাবে নেসেটের স্পিকার পরিবর্তনের চেষ্টা না করার হুঁশিয়ারি দিয়ে বিটন বলেন, ‘যে মুহূর্তে তারা নেসেটের স্পিকার প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করবে... আমি কীভাবে বলব? এটি যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। সব দলের সম্মতিতে স্পিকার নিয়োগে কোনো সমস্যা নেই। তবে তারা যদি একতরফা সংসদীয় চাল চালতে শুরু করে, তবে তা হবে একটি লাল রেখা।’
তিনি আরও সতর্ক করেন, জাতীয় ঐক্য সরকার গঠন করা না হলে দেশ আরেকটি নির্বাচনের দিকে ধাবিত হবে। বিটনের মতে, লিকুদ পার্টিকে ছাড়া গঠিত যেকোনো সরকার টিকে থাকবে না এবং ‘ছয় মাসের বেশি বেঁচে থাকতে সক্ষম হবে না’।
এদিকে আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর ভিত্তি করে সরকার গঠনের বিকল্পটিকে বিরোধী দলগুলো প্রত্যাখ্যান করলেও জয়েন্ট লিস্ট এবং ইউনাইটেড আরব লিস্ট বা রা’আম পার্টি আইজেনকোটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করতে পারে বলে জয়েন্ট লিস্টের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সূত্র: দ্য নিউ আরব