বাংলাদেশের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার দল ঘোষণা

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে ২ নম্বরে উঠে এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তাতে ফাইনাল খেলার দৌড়ে আরও একধাপ এগিয়ে গেছে প্রোটিয়ারা।

অন্যদিকে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচে সিরিজে প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট টেবিলে ৪ নম্বর থেকে ৫ নম্বরে নেমে গেছে বাংলাদেশ। এবার ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দলের নেতৃত্বে থাকছেন নিয়মিত অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জেতার সেই ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের বিপক্ষেও ধরে রাখতে চান দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ শুকরি কনরাড। বর্তমানে টেস্ট র‍্যাংকিংয়ের সবার উপরে থাকা দলটি বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলবে হাইভেল্ডের দুই ভেন্যুতে। আগামী ১৫ নভেম্বর জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। ২৩ নভেম্বর সেঞ্চুরিয়নের সুপারস্পোর্ট পার্কে শুরু হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। 

ঘোষিত দলে ফিরেছেন টনি ডি জর্জি। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে খেলতে পারেননি এই ব্যাটার। দলে জায়গা পেয়েছেন জুবায়ের হামজাও। পেস আক্রমণেও ফিরেছেন এনরিখ নরকিয়া। কুঁচকির চোটে দুই সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকার পর আবারও দলে জায়গা পেয়েছেন তিনি। পেস বিভাগে তার সঙ্গে থাকছেন কাগিসো রাবাদা, ডেন প্যাটারসন, অলরাউন্ডার করবিন বশ, মার্কো ইয়ানসেন ও ভিয়ান মুন্ডার। তবে পুনর্বাসনপ্রক্রিয়ার মধ্যে থাকায় বিবেচনায় আসেননি পেসার লুঙ্গি এনগিডি।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান কোচ শুকরি কনরাড জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষেও ভালো করতে চায় তার দল। তবে কন্ডিশন বিবেচনায় পেস বোলিংয়ের ওপরই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে স্বাগতিকেরা। কনরাড বলেন, হাইভোল্ডের উইকেট সাধারণত পেস ও বাউন্সের জন্য পরিচিত। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ান্ডারার্সে স্পিনাররাও কিছুটা সুবিধা পেয়েছেন। তাই কন্ডিশন বিবেচনায় দলে পেস বোলিংয়ের বিকল্প বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। 

বাংলাদেশের পেস আক্রমণ নিয়েও সতর্ক দক্ষিণ আফ্রিকা। কনরাডের মতে, হাইভেল্ডের কন্ডিশনে বাংলাদেশের পেসাররাও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। বলেন, 'বাংলাদেশ কি ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, তা আমরা জানি। হাইভেন্ডের কন্ডিশনে তাদের পেসাররা বেশ কার্যকর হয়ে উঠবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।' ব্যাটিং বিভাগে টনি ডি জর্জির প্রত্যাবর্তন ও জুবায়ের হামজার অন্তর্ভুক্তি দলকে বাড়তি শক্তি দেবে বলেও মনে করেন তিনি। এর আগে সর্বশেষ ২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই সিরিজে ২-০ ব্যবধানে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের হারিয়েছিল প্রোটিয়ারা।

দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোয়াড: টেম্বা বাভুমা (অধিনায়ক), মার্কাস অ্যাকারম্যান, ম্যাথু ব্রিটস্কি, করবিন বশ, টনি ডি জর্জি, সাইমন হার্মার, জুবাইর হামকা, মার্কো ইয়ানসেন, কেশাভ মাহারাজ, এইডেন মার্করাম, ভিয়ান মুন্ডার, এনরিখ নরকিয়া, ড্যান প্যাটারসন, কাগিসো রাবাদা, রায়ান রিকেলটন।