প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভোটাধিকার নিশ্চিতের আহ্বান

বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ভোটারদের বড় একটি অংশ প্রয়োজনীয় যাতায়াত ব্যবস্থা ও ভোটকেন্দ্রের প্রতিবন্ধকতার কারণে ভোট দিতে পারেন না। তাঁদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ভোটকেন্দ্র নিচতলায় স্থাপন, প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং ভোটদানের পরিবেশ সহজ ও প্রবেশগম্য করার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর বারিধারার একটি হোটেলে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্য চেঞ্জ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাসের (বি-স্ক্যান) আয়োজনে ‘ডিজেবিলিটি ইনক্লুসিভ ইলেকশন রিপোর্টিং’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসির (ইপিডি) সহযোগিতায় ‘প্রোমোটিং ডিজেবিলিটি ইনক্লুসিভ ইলেকশন অবজারভেশন (পিডিআইইও)’ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় বি-স্ক্যানের নির্বাহী পরিচালক সালমা মাহবুব বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভোটদানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত ভোটকেন্দ্রের প্রবেশগম্যতার ওপর। তাঁদের জন্য নিচতলায় ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। যেসব ভবনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়, সেখানে সিঁড়ি ব্যবহার করতে হয় না, এমন জায়গায় ভোটদানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

প্রতিবন্ধী ভোটারদের সহযোগিতায় প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা, পুলিশ এবং অন্যরা সহযোগিতা করলেও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তায় আলাদা প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক দল থাকা উচিত। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। নারী প্রতিবন্ধী ভোটারদের প্রয়োজন বিবেচনায় নারী স্বেচ্ছাসেবক রাখাও জরুরি।

বি-স্ক্যানের প্রোগ্রাম পরিচালক ইফতেখার মাহমুদ বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও এ রাষ্ট্রের নাগরিক। ভোটাধিকারসহ রাষ্ট্রের সব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার তাঁদের রয়েছে। তাঁদের অধিকার আদায়ে নিজেদের সংগঠিত হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিসরে অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের অধিকারের কথা বলে আসছেন। কিন্তু অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে সংগঠিত হওয়ার জায়গায় বড় ঘাটতি রয়েছে। সংগঠন গঠন, পরিচালনা ও এগিয়ে নেওয়া তাঁদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিসরে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সেগুলো দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। তাঁদের শুধু ভিক্ষা বা সহানুভূতির বিষয় হিসেবে না দেখে অধিকারসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

কর্মশালাটি পরিচালনা করেন মিডিয়া অ্যানালিস্ট ও গবেষক নাজিয়া আফরিন মোনামী এবং দৈনিক ইত্তেফাকের স্টাফ রিপোর্টার ও মহিলা অঙ্গন সম্পাদক রাবেয়া বেবী। সমাপনী বক্তব্য দেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ডেলিগেট সিমোনা কামোলিনি। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইপিডির প্রকল্প পরিচালক আনাস্তাসিয়া এস উইবাওয়া, প্রোগ্রাম ম্যানেজার রোকসানা হক এবং বি-স্ক্যানের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মাহফুজুর রহমান রাকীব প্রমুখ।

বি-স্ক্যান মনে করে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নির্বাচনী অংশগ্রহণ নিয়ে গণমাধ্যমে দয়া বা সহানুভূতিনির্ভর উপস্থাপনার পরিবর্তে মানবাধিকার, সমতা ও নাগরিক অধিকারের দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। দায়িত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সাংবাদিকতা নির্বাচনী গণতন্ত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কার্যকর অংশগ্রহণ এবং গণমাধ্যমে তাঁদের মর্যাদাপূর্ণ উপস্থাপনা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।