বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার লক্ষ্যে বিজিবি ও বিএসএফের উচ্চপর্যায়ের সীমান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সীমান্ত হত্যা বন্ধ, চোরাচালানসহ সব ধরনের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বাংলাদেশের বেনাপোল সীমান্তের ওপারে ভারতের পেট্রাপোল বিএসএফ কনফারেন্স সেন্টারে বিজিবি দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ও বিএসএফ সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের আইজি পর্যায়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে ছয় সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিজিবি দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান। অন্যদিকে, সাত সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিএসএফ সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের আইজি ইন্সপেক্টর জেনারেল শ্রী দলজিত সিং, আইপিএস।
বৈঠকে সীমান্ত হত্যা বন্ধসহ সব ধরনের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো এবং দুই দেশের সীমান্তবর্তী মানুষের জানমাল-নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
আলোচনায় উভয় পক্ষই সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ব্যাপারে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সীমান্ত সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা পারস্পরিক যোগাযোগ, সমঝোতা ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি দুই বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক, যোগাযোগ ও সমন্বয় আরও সুদৃঢ় করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, সীমান্ত কেবল দুই দেশের ভৌগোলিক সীমানা নয়, এর দুই পাশে রয়েছে অসংখ্য মানুষের বসতি, জীবন-জীবিকা ও পারিবারিক-সামাজিক সম্পর্ক। তাই সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক দুই বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা, আস্থা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, উভয় পক্ষের প্রত্যাশা, বৈঠকের আলোচনা ও সিদ্ধান্ত সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।