বরিশালের মুলাদী পৌরসভার থানা সড়কে হাজী টাওয়ারের একটি ভবন থেকে পড়ে সিয়াম বিন তছলিম (২২) নামের এক যুবকের ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু’ হয়েছে। ছাদ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে নাকি সেখান থেকে ফেলে তাকে হত্যা করেছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিয়ামের পরিবার ও স্বজনরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ভবনটির নিচ থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের ভাষ্য, ভবন থেকে পড়ে গেছেন, নাকি তাকে ফেলে দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে তাদের সংশয় রয়েছে।
নিহত সিয়াম মুলাদী সদর ইউনিয়নের খালাসিরচর গ্রামের মো. তছলিম সরদারের ছেলে। তিনি বাড়িতেই থাকতেন। কী কারণে এবং কার সঙ্গে তিনি হাজী টাওয়ারে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে কিছু জানেন না পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিকেল পৌনে ৪টার দিকে থানার সামনে হাজী টাওয়ারের রাস্তা-সংলগ্ন একটি ভবনের নিচে এক যুবক পড়ে যান। পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে থানা পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে এক ব্যক্তি তাকে চিনতে পেরে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে তার বাবা তছলিম সরদার হাসপাতালে গিয়ে ছেলের পরিচয় শনাক্ত করেন।
তছলিম সরদারের খালাতো ভাই রুহুল আমিন জানান, বুধবার সিয়াম বাড়িতেই ছিলেন। দুপুরে খাবার খাওয়ার পর বাড়ি থেকে বের হন। বিকেল ৪টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে তিনি সিয়ামের মরদেহ দেখতে পান।
সিয়ামের বাবা তছলিম সরদার বলেন, হাজী টাওয়ার কিংবা থানা সড়ক এলাকায় তাদের কোনো আত্মীয়স্বজন বা পরিচিতজন থাকেন না। আমার ছেলে কেন সেখানে গিয়েছিল তা জানি না। কীভাবে ভবন থেকে নিচে পড়েছে নাকি কেউ তাকে ফেলে দিয়েছেন, তা নিয়েও সন্দেহ আছে।
মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, হাজী টাওয়ারের প্রথম ভবন থেকে পড়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ওই যুবক আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং হাজী টাওয়ারের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।