রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে একজন সহকারী কমিশনারের (এসি) অফিসের ড্রয়ার ভেঙে ৫ হাজার পিস ইয়াবা চুরির ঘটনায় সোহেল রানা নামের এক কনস্টেবলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখে ডিবি-উত্তর বিভাগে কর্মরত কনস্টেবল সোহেল রানাকে এই চুরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার প্রমাণ পাওয়ার পর তাকে আটক করা হয়। পরে তার বাসা থেকে ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বুধবার তার বিরুদ্ধে রমনা থানায় একটি মামলা দায়েরের পর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল সোহেল রানার বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থানার কাকনা গ্রামে।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ১৬ আগস্ট গভীর রাতে এক ব্যক্তি মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ের পুকুরপাড়ে আসেন। রাত ৩টা ৩৫ মিনিটে ইয়াবা ভর্তি ব্যাগ নিয়ে প্রধান ফটকে যান ঐ ব্যক্তি। এরপর তিনি রিকশায় করে শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সরণির দিকে চলে যান। পরদিন সকালে ডিবির এএসআই আবু সুফিয়ান প্রধান গেটে দায়িত্ব পালনের জন্য আসেন। পরে অফিসে গিয়ে দেখেন দরজার সামনের বারান্দার সিলিং এবং ভেতরের দক্ষিণ কোণের সিলিং খোলা। তিনি সঙ্গে সঙ্গে ডিবির সহকারী কমিশনার মজিবর রহমানকে ঘটনাটি জানান। পরে দেখা যায় মজিবর রহমানের কক্ষের থাই অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি দরজা ও তিনটি ড্রয়ারের তালা ভাঙা। দ্বিতীয় ড্রয়ারে একটি মাদক মামলার আলামত হিসেবে পলিথিনের ব্যাগে রাখা ৫ হাজার ইয়াবা চুরি হয়েছে। যার দাম আনুমানিক ১০ লাখ টাকা। এরপর ডিবি অফিসের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে কনস্টেবল সোহেল রানাকে শনাক্ত করা হয়। কনস্টেবল সোহেল রানা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন যে, তিনিই সে দিন রাতে তালা ভেঙে ৫ হাজার পিস ইয়াবা চুরি করেন। পরে সোহেল রানার বাসার খাটের নিচ থেকে ঐ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ১৮ বছর ধরে কনস্টেবল হিসেবে চাকরিরত সোহেল রানাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ডিবির উপ-কমিশনার (পশ্চিম) মোখলেসুর রহমান বলেন, অপরাধী যেই হোক, কোনো ছাড় নেই।