পরিচালনা কমিটি ও গভর্নিং বডি প্রবিধানে পরিবর্তন আসছে

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও গভর্নিং বডি প্রবিধানমালায় পরিবর্তন আসছে। গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা প্রবিধানমালা ২০০৯ সংশোধন খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন তা অনুমোদনের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর কাছে যাবে। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জাভেদ আহমেদের সভাপতিত্বে ওই সভায় বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

সভা সূত্রে জানা যায়, পরিচালনা কমিটির সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে হবে। মনোনয়নপত্রের দাম সর্বোচ্চ ৫ হাজার এবং সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা। প্রতিষ্ঠানকে জমি লিখে দিলে আজীবন দাতা সদস্য হবেন ব্যক্তি। তার অনুপস্থিতিতে তার সন্তান দাতা সদস্য হতে পারবেন। খসড়ায় বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাঙ্ক্ষিত ফল না করলে পরিচালনা কমিটিকে শিক্ষা বোর্ডের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরপর তিন বছর এমন হলে এমপিও (বেতন বাবদ মাসিক সরকারি সুবিধা) বাতিল, প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি ও স্বীকৃতি বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে পরিচালনা কমিটিও বাতিল করতে পারবে শিক্ষা বোর্ড। কমিটির সভাপতি বা কোনো সদস্য প্রতিষ্ঠান থেকে পারিশ্রমিক নিতে পারবেন না। কেবল সভা চলাকালীন ‘হালকা খাবারের’ জন্য সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা খরচ করা যাবে। কমিটির দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের আবেদনে সভাপতি পরিবর্তনের আবেদন করা যাবে। তদন্ত কমিটির মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত হলেই কেবল শিক্ষককে শাস্তি দেয়া যাবে। পরিচালনা কমিটি ইচ্ছে করলেই কোনো শিক্ষককে বরখাস্ত করতে পারবেন না। এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের পূর্বানুমতি নিতে হবে। কাউকে ৬০ দিনের বেশি সাময়িক বরখাস্ত করে রাখলে পুরো বেতন-ভাতা দিতে হবে। অ্যাডহক কমিটি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ করতে পারবে না।