রোনালদোর অবসর নিয়ে কোচ জেসুস বললেন, ‘সম্পূর্ণভাবে তার সিদ্ধান্ত’

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিওতে সমর্থকদের উদ্দেশে চিঠি পড়ে নিজের অবসরের খবর জানান পর্তুগিজ এই মহাতারকা। রোনালদোর অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পর্তুগালের কোচ হোর্হে জেসুস।

গত সেপ্টেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে পর্তুগাল কোচ জেসুসের সঙ্গে বিরোধে জড়ান রোনালদো। নেশনস লিগে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে একাদশে রাখা হয়নি। বদলি হিসেবেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি তিনি। ম্যাচ শেষে সতীর্থরা দর্শকদের অভিবাদন জানাতে গেলেও সরাসরি ড্রেসিংরুমে চলে যান এই ফরোয়ার্ড।

ডেনমার্কের বিপক্ষে পরের ম্যাচেও একাদশে থাকবেন না জানতে পেরে কোপেনহেগেনে দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান রোনালদো। তখন কোচ জেসুসের বিরুদ্ধে দেওয়া কথা না রাখার অভিযোগও তোলেন তিনি। পরে অবশ্য নিজের ভুল স্বীকার করেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। এ ঘটনায় তাকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞাও দেয় পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন।

অনেকেই মনে করেন রোনালদোর এই অবসরের সিদ্ধান্তের পেছনে পর্তুগাল কোচ জেসুসের সঙ্গে তার বিরোধের ভূমিকা অন্যতম। তবে রোনালদোর অবসরের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে তার নিজের বলে জানিয়েছেন কোচ জেসুস। 

পর্তুগাল কোচ হোর্হে জেসুস

পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) টিভি চ্যানেল ‘ক্যানাল ১১’–কে জেসুস বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণভাবে তার সিদ্ধান্ত। প্রথম দল ঘোষণার আগেই এ বিষয়ে আমাদের কথা বলার সুযোগ হয়েছে। আমি তাকে থেকে যাওয়ার অনুরোধ করেছি। আমার সঙ্গে থেকে যাওয়ার অনুরোধ, কারণ তাকে আমার পাশে দরকার ছিল। কিন্তু তার সিদ্ধান্তটা আমাকে মেনে নিতে হবে।’

রোনালদোর প্রশংসা করে পর্তুগালের কোচ বলেন, ‘সে এই বিশ্ব, পর্তুগাল ও জাতীয় দলের জন্য উদাহরণ। এমন একজন খেলোয়াড়, যে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলকে অনেক কিছু দিয়েছে। সে পর্তুগিজ তরুণদের প্রতীক। তার বেশির ভাগ ভক্তই তরুণ। আল নাসরে তার সঙ্গে এক বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে। সে সব সময় আমাদের জাতীয় দল, আমাদের মানুষ এবং আমাদের ইতিহাসের জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন সদর দপ্তরে রোনালদোকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত জানান জেসুস। তিনি বলেন, ‘আমাদের অডিটোরিয়ামে তার একটি বড় ছবি রয়েছে, যাতে সেখানে প্রতিদিন আসা সব তরুণ এবং আমাদের সহকর্মীরা তার ছবি দেখতে পান।’