পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি তাদের অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার কোটি থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার কোটি টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পর্ষদ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে এ তথ্য শেয়ারধারীদের জানিয়েছে ব্যাংকটি।
মূলধন বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে ব্যাংকটির একজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা বলেন, ‘এস আলম গোষ্ঠীর অনিয়মের কারণে ব্যাংকটি মূলধন সংকটে পড়েছে। এ জন্য অনুমোদিত মূলধন বাড়িয়ে বিদেশি কৌশলগত বিনিয়োগকারীকে ব্যাংকটির সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মূলধন বাড়ানোর পরামর্শটি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এসেছে। আশা করছি আমাদের সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন করবে।’
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দেওয়া ইসলামী ব্যাংকের ঘোষণা অনুযায়ী, ব্যাংকের সংঘস্মারকে প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে অনুমোদিত মূলধন বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন এবং বিশেষ সাধারণ সভায় শেয়ারধারীদের চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
জানা যায়, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ চলতি পঞ্জিকা বছরের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) কর-পরবর্তী নিট লোকসান করেছে ৩ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। অথচ ২০২৫ সালের প্রথম ৯ মাসে ব্যাংকটি মুনাফা করেছিল প্রায় ৭৯ কোটি টাকা। আবার চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যাংকটির লোকসান হয়েছে ১ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা।
ব্যাংকটির তথ্যানুযায়ী, বড় লোকসানের কারণে সম্পদের মূল্য কমে প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটির নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) ছিল ৩ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা। তাতে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যও কমে গেছে।
২০২৩ সালের পর শেয়ারধারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি আর্থিক সংকটে থাকা ইসলামী ব্যাংক। ফলে শেয়ারবাজারে এখন ব্যাংকটি দুর্বল মানের কোম্পানি হিসেবে জেড শ্রেণিভুক্ত। ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক দখল করে চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপ। এরপর ব্যাংকটি থেকে নামে-বেনামে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা তুলে নেয় গ্রুপটি। যার সবই এখন খেলাপি হয়ে পড়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা হারানোর পর ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ হারায় এস আলম গ্রুপ। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যাংকটি পরিচালনার দায়িত্ব পান স্বতন্ত্র পরিচালকেরা, এখন দায়িত্ব নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।