ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর মোবাইল ফোনে অবৈধভাবে নজরদারির গুরুতর অভিযোগে দেশটির খোদ প্রেসিডেন্টের সদ্য নিযুক্ত চিফ অব স্টাফ লিসতিও সিগিত প্রাবোওসহ শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের তদন্ত শুরু করেছে জাকার্তা কর্তৃপক্ষ।
গত মঙ্গলবার গ্রেপ্তারের পরপরই জাতীয় পুলিশ বাহিনীর সাবেক প্রধান লিসতিওকে পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়। নামে মিল থাকলেও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার কোনো পারিবারিক সম্পর্ক নেই। এই আড়িপাতা কেলেঙ্কারিতে এ পর্যন্ত চারজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগে সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ড হতে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রশাসন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, কোনো পরোয়ানা বা আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই পুলিশের বিশেষ নজরদারি সিস্টেমে প্রেসিডেন্টের ফোন নম্বর যুক্ত করা হয়েছিল এবং লিসতিও পুলিশ প্রধান থাকাকালীন ২০২৫ সাল থেকেই এই আড়িপাতা চলছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু প্রেসিডেন্ট নন, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি এবং শীর্ষ ব্যবসায়ীদের ফোনেও এই অবৈধ নজরদারি চালানো হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি সাবেক প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর (জোকোই) সঙ্গে বর্তমান প্রেসিডেন্ট প্রাবোওর তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বহিঃপ্রকাশ। ২০২৪ সালের নির্বাচনে জোকো উইদোদোর সমর্থনে ক্ষমতায় আসা প্রাবোওর সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্টের সম্পর্কের ফাটল এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে, এবং জোকোইয়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত লিসতিওর গ্রেপ্তার সেই ক্ষমতার দ্বন্দ্বকেই নির্দেশ করছে।
বর্তমানে ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ, নতুন রাজধানী 'নুসানতারা' প্রকল্প নিয়ে দ্বিমত, বিনামূল্যে খাদ্য কর্মসূচির তহবিল সংকট, শেয়ার বাজারের দুর্নীতির বিতর্ক এবং ভয়াবহ দাবানল পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রাবোও সরকার যখন বহুমুখী সংকটের মুখোমুখি, ঠিক তখনই খোদ প্রেসিডেন্টের অফিসে আড়িপাতার এই স্পর্শকাতর তথ্য সামনে এলো। এই ঘটনা দেশটির প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে আরও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।