গাজীপুর সাফারি পার্কে নীলগাই পরিবারে নতুন অতিথি, চার শাবকের জন্ম

গাজীপুর বনভূমির নীরব পরিবেশে মায়ের সঙ্গে ছুটে বেড়াচ্ছে চারটি ফুটফুটে শাবক। কখনো মায়ের পাশে ঘেঁষে দাঁড়ানো, কখনো একে অপরের সঙ্গে খুনসুঁটি, এভাবেই কাটছে তাদের সময়। 

নতুন এই চার অতিথির আগমনে প্রাণচাঞ্চল্য বেড়েছে গাজীপুরের সাফারি পার্কে। বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা নীলগাই পরিবারের নতুন সদস্যদের দেখতে পেয়ে আনন্দিত হচ্ছেন পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে শিশুদের কাছে শাবকগুলো শিশুসুলভ আচরণ বাড়তি আকর্ষণ যোগ করেছে।

পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, গত এক মাসের মধ্যে কোর সাফারির হরিণ সাফারি এলাকায় নীলগাইয়ের চারটি শাবকের দেখা মেলে। শাবকগুলোর নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে শুরুতে তাদের জন্মের খবর মিডিয়াসহ কাউকেই প্রকাশ করা হয়নি। বর্তমানে শাবকগুলো সুস্থ রয়েছে এবং নিয়মিত মায়ের দুধ পান করছে। মায়ের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে খেলাধুলা ও খুনসুঁটিতে মেতে উঠছে তারা। আর এসব কারণে পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের জন্যও নতুন শাবকগুলো বাড়তি আনন্দের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। দূর থেকে ছোট ছোট শাবকগুলোর ছুটে চলা দেখতে ভিড় করছে দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে শিশু দর্শনার্থীরা নীলগাইয়ের শাবক দেখে বেশ উচ্ছ্বসিত। 

পার্কের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক মো. রাজু আহমেদ বলেন, ‘প্রায় এক মাস আগে কোর সাফারির হরিণ সাফারি এলাকায় মায়ের সঙ্গে নীলগাইয়ের শাবকগুলোকে দেখতে পান তারা। শাবকগুলোর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই তাৎক্ষণিকভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হয়নি। চারটি শাবকই সুস্থ রয়েছে। নিয়মিত মায়ের দুধ পান করছে এবং স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছে। তবে এখনো শাবকগুলোর লিঙ্গ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।’

সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. তারেক রহমান বলেন, ‘কোর সাফারির দায়িত্বে থাকা কর্মচারীরা প্রথমে নীলগাইয়ের শাবক দেখতে পান। পরে পর্যবেক্ষণে চারটি শাবকের বিষয়ে তারা নিশ্চিত হন। শাবকগুলো মায়ের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠছে। কখনো চারটি একসঙ্গে খেলাধুলা ও খুনসুঁটি করে। তাদের আগমনে পার্কের দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়তি আনন্দ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশুরা শাবকগুলো দেখে বেশি উচ্ছ্বসিত।’ 

তিনি আরও জানান, সদ্য জন্ম নেওয়া চার শাবকসহ বর্তমানে সাফারি পার্কে নীলগাইয়ের সংখ্যা ১৩টি। শাবকগুলোর লিঙ্গ এখনো শনাক্ত করা যায়নি। 

ঢাকা বিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী জানান, প্রায় এক মাস আগে পার্কে নীলগাইয়ের চারটি শাবকের জন্ম হয়েছে। শাবকগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ সার্বিক পরিচর্যা ও দেখভালের বিষয়ে পার্ক কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাদের নিরাপদে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।