রেলস্টেশন থেকে ৫০ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ছিনতাই, সুড়ঙ্গে মিলল ১৮ ভরি

পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চট্টগ্রামে যাচ্ছিলেন ফাতেমা আক্তার। চট্টগ্রামগামী মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠতে গত বৃহস্পতিবার ভোরে চাঁদপুর রেলস্টেশনে যান তিনি। ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় পরিবারের সদস্যদের স্বর্ণালংকার ও টাকাপয়সা একটি ভ্যানিটি ব্যাগে রেখেছিলেন। তবে স্টেশন থেকেই সেই ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনায় করা মামলার তদন্তে চাঁদপুর ও কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতিয়া নদীর একটি পন্টুনের সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে ছিনতাই হওয়া ১৮ ভরি স্বর্ণালংকার, ৪৮ হাজার টাকা ও একটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে। 

রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিরা নূর।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন চাঁদপুর সদর উপজেলার শ্রমিক কলোনি এলাকার জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে মো. জাহিদ হোসেন (২১), একই এলাকার আবদুল মালেক কোড়ালীর ছেলে রাব্বি হোসেন (২৪) এবং প্রয়াত শফিকের ছেলে জাহিদ (২১)।

ভুক্তভোগী ফাতেমা আক্তার চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। গত ৫ নভেম্বর ভোরে চাঁদপুর রেলস্টেশন থেকে তার ব্যাগটি ছিনতাই হয়। ওই ব্যাগে প্রায় ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ১৯ ভরি স্বর্ণালংকার, ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ও তিনটি মুঠোফোন ছিল। এ ঘটনায় ফাতেমার ভাই মো. মেরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে চাঁদপুর রেলওয়ে থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, মামলা হওয়ার পরপরই ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা পুলিশ। প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের শনাক্ত করা হয়। পরে চাঁদপুর শহরে অভিযান চালিয়ে ঘটনার হোতা মো. জাহিদ হোসেন ও রাব্বি হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এরপর শনিবার ভোরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজকান্দি গ্রামে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে বোনের শ্বশুরবাড়ি থেকে আরেক আসামি জাহিদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, কিশোরগঞ্জ থেকে জাহিদকে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ৪৮ হাজার টাকা ও একটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদপুর বড় স্টেশনের ডাকাতিয়া নদীর ভিআইপি ঘাটে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পন্টুনের ভেতরের সিঁড়ির নিচ ও সুড়ঙ্গ থেকে ছিনতাই হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের মধ্যে রয়েছে সাত ভরি ওজনের সাতটি সোনার চেইন, তিন ভরি ওজনের পাঁচটি আংটি, আড়াই ভরি ওজনের চার জোড়া কানের দুল, দুই ভরি ওজনের দুটি চুড়ি, আড়াই ভরি ওজনের একটি হার এবং এক ভরি ওজনের একটি ব্রেসলেট।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিরা নূর বলেন, ‘ওই নারীর ব্যাগে ১৯ ভরি স্বর্ণালংকার, ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ও তিনটি মুঠোফোন ছিল। ছিনতাইয়ের ভয়ে সব একত্র করে একটি ভ্যানিটি ব্যাগে রেখেছিলেন। পুলিশ ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে ১৮ ভরি স্বর্ণালংকার, ৪৮ হাজার টাকা ও একটি মুঠোফোন উদ্ধার করেছে। বাকি স্বর্ণালংকার, মুঠোফোন ও টাকা উদ্ধার করা যায়নি।’

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।