রেস্টুরেন্টে খাবার আগে দেওয়া নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, মহাসড়ক অবরোধ

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১৩:৪০

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এর জেরে প্রায় এক ঘণ্টা উপজেলার হেয়াকো-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন একটি পক্ষের নেতা-কর্মীরা। শনিবার (৭ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের হেয়াকো এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। একটি পক্ষ স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর এবং অপর পক্ষটি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আজিম উল্লাহ বাহারের অনুসারী। গতকাল রাতে উপজেলার বাগান বাজার সিকদার ঘাটা বাজারে একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খেতে ঢোকেন মোহাম্মদ কবির ও নাছির উদ্দিন। তাদের মধ্যে নাছির উদ্দিন এলাকায় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। আর মোহাম্মদ কবির আজিম উল্লাহ বাহারের অনুসারী। হোটেলে ঢোকার পর দুজনেই তাকে আগে খাবার দিতে বলেন। 

এ নিয়ে প্রথমে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তর্ক হয় তাদের। এরপর দুজন মারামারিতে জড়ান। খবর পেয়ে দুই পক্ষের অনুসারীরা ওই এলাকায় জড়ো হলে তাদের মধ্যেও সংঘর্ষ বাঁধে।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে নাছির উদ্দিনের অনুসারীরা হেয়োকো-খাগড়াছড়ি সড়ক অবরোধ করেন। এতে ওই সড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংঘর্ষের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আজিম উল্লাহ বাহার জানান, তার কর্মী মুহাম্মদ কবিরকে সালিস বৈঠকে ডেকে নিয়ে হামলা করে মারধর করা হয়। তিনি এ ঘটনার বিচার চান। নাছির উদ্দিন এ কাজে যুক্ত।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুজনের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এখানে কোনো পক্ষ-বিপক্ষের দ্বন্দ্ব নেই। ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।

ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, ‘স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর এবং বিএনপি নেতা আজিম উল্লাহ বাহারের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরে সংসদ সদস্যের অনুসারীরা সড়ক অবরোধ করেন।’ 

এসময় আধা ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং অবরোধ তুলে যান চলাচল স্বাভাবিক করে বলে জানান ওসি।

 

 

ইত্তেফাক/এনটিএম