কিশোরগঞ্জের নিকলীতে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে চালানো হচ্ছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা। এলপি গ্যাসভর্তি সিনিন্ডার আলাদাভাবে যাত্রী আসনের পেছনে বেঁধে ইঞ্জিনের সাথে সংযুক্ত করছে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা। এলপি গ্যাস সিন্ডািরের সহজলভ্যতার কারণেই এর ব্যবহার দিনদিন বেড়েই চলছে। এতে বাড়ছে যাত্রী সাধারণের নিরাপত্তা ঝুঁকি।
গত বুধবার উপজেলার বিভিন্ন সিএনজি স্ট্যান্ড ঘুরে দেখা যায়, নিকলী-কিশোরগঞ্জ, নিকলী-ভৈরব, কটিয়াদি-নিকলী, বাজিতপুর-নিকলীসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলায় চলাচলকারী যাত্রীবাহী অটোরিকশায় সিএনজির পরিবর্তে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার হচ্ছে। এসব সিলিন্ডার চালকের সিটের নিচে এবং যাত্রী সিটের পেছনে ক্যারিয়ারে উন্মুক্তভাবে ব্যবহার হচ্ছে। এ জাতীয় পরিবহনে সিএনজি সিলিন্ডার ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে থাকলেও এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের অনুমতি নেই বলে জানা যায়। এলপি গ্যাস সিন্ডাির সাধারণত বাসা-বাড়িতে রান্নার কাজে ব্যবহার হয় বলে জানা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিএনজি সিলিন্ডার প্রকারভেদে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায় কিনতে হয়। এতে গ্যাস রি-ফিলিং করলে এক চতুর্থাংশ বাতাস থাকলেও সিলিন্ডারটি নিরাপদ থাকে। এলপি গ্যাস সিলিন্ডার যত্রতত্র ১২ শত টাকাতেই কেনা যায় তাতে বাতাসের পরিমাণ থাকে না। কিন্তু এ জাতীয় পরিবহনে সিলিন্ডার কোনোক্রমেই নিরাপদ নয়।
সরেজমিনে জানা যায়, নিকলী উপজেলা সদর থেকে সর্ব দক্ষিণে ৫৮ কিলোমিটার দূরে ভৈরবে একমাত্র সিএনজি রি-ফিলিং স্টেশনটি অবস্থিত। ফলে অটোরিকশা মালিক ও ড্রাইভারকে গ্যাস সংগ্রহ করতে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হয়। তাই অতিরিক্ত মুনাফার লোভে এলপি সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করছে সিএনজি মালিক ও ড্রাইভাররা। এ কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে এলপি গ্যাসের দাম।
নিকলী উপজেলা সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, সিএনজিতে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারের ফলে যাত্রীরা সব সময় মৃত্যুভয় নিয়ে চলাচল করছে। যে কোনো সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
নিকলী উপজেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মুর্শীদ মিয়া জানান, মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় সুযোগ নিচ্ছে পুলিশ। ভৈরবে গ্যাস কিনতে গেলে পথে পুলিশ সদস্যরা গতিরোধ করে। অন্যদিকে ভৈরব গেলে বিভিন্ন ধরনের চাঁদা দিয়ে আমাদের আর কিছুই থাকে না। প্রতিদিন একই রকম ঝামেলা পোহাতে হয়। এখন সব ঝুঁকি মাথায় নিয়ে এলপি গ্যাস ব্যবহার করছি। নিকলী উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার প্রায় দুই হাজার সিএনজির ড্রাইভার এলপি গ্যাস ব্যবহার করছে।
এ ব্যাপারে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুছাম্মত্ শাহীনা আক্তার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।