অ্যামাজনে আগুন বৈশ্বিক সংকট :ফরাসি প্রেসিডেন্ট

অ্যামাজনে ভয়াবহ আগুনকে বৈশ্বিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো। তিনি বলেছেন, এটি  ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে কারো নাক গলানো তিনি সহ্য করবেন না।

বৃহস্পবাির ফ্রান্সের ম্যাক্রোঁ ও জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তাদের টুইটারে অ্যাকাউন্টে অ্যামাজন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা দুই জনই বলেন, অতীতের চেয়েও এবার অ্যামাজনের আগুন রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। আমাজন বনাঞ্চলে চলতি বছরের রেকর্ড অগ্নিকাণ্ডকে ‘বৈশ্বিক সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ এ বিষয়টি জি-৭ সম্মেলনের আলোচ্যসূচির শীর্ষে থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন। টুইটারে তিনি লিখেন, ‘আমাদের ঘর জ্বলছে।’ অপরদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটের মধ্যে আমরা অক্সিজেন ও জীববৈচিত্র্যের অন্যতম প্রধান উেসর এমন ক্ষতি মেনে নিতে পারি না। আমাজনকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।’

ম্যাক্রোঁ ও গুতেরেসের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনেরো। তার অভিযোগ, ম্যাক্রোঁ ‘রাজনৈতিক সুবিধা লাভের’ জন্য আমাজনের অগ্নিকাণ্ডকে ব্যবহার করছেন। বোলসোনেরো বলেন, জি-৭ সম্মেলনে ব্রাজিল অংশ না নেওয়ায় সেখানে এ অগ্নিকাণ্ড নিয়ে আলোচনা ‘ভুল স্থানে উপনিবেশবাদী মানসিকতা’ উন্মোচিত করবে। বোলসোনারো তার ফেসবুক পেজে দেওয়া ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘এই দেশগুলো অ্যামাজন রক্ষায় যে অর্থ পাঠায়, তা দাতব্যের উদ্দেশ্যে নয় বরং তারা আমাদের দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ করার উদ্দেশ্য নিয়েই এই অর্থ পাঠায়।’

ব্রাজিলে এবার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৫ শতাংশ বেশি অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। এ অগ্নিকাণ্ডের বেশির ভাগই সংঘটিত হয়েছে অ্যামাজন অঞ্চলে। পরিবেশবাদীরা এজন্য অ্যামাজন নিয়ে বোলসোনেরো সরকারের নীতিকে দায়ী করছেন। কট্টর ডানপন্থি এ প্রেসিডেন্ট বন উজাড়ে কাঠুরে ও কৃষকদের উত্সাহিত করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বোলসোনেরো প্রথম দিকে এসব অগ্নিকাণ্ডের জন্য এনজিওকে দায়ী করলেও এ দাবির সমর্থনে কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেননি। বৃহস্পতিবার অবশ্য তিনি তার অবস্থান থেকে সরে এসে ‘কৃষকরাও বনে আগুন দিতে পারে’ এমন মন্তব্য করেন। অ্যামাজনের আগুনের বিষয়ে  ব্রাজিলের বর্তমান সরকারের অবস্থান নিয়ে বিশ্বজুড়েই তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।