আখাউড়া স্থলবন্দরে বাংলাদেশি যাত্রীদের দুর্ভোগ

ভারতে ভ্রমণকারী বাংলাদেশি যাত্রীদের সমস্যার কোনো শেষ নেই। কেউ দাঁড়িয়ে, কেউ মোটরসাইকেলে, কেউ আবার সিঁড়িতে বসে সারছেন কাজ। আখাউড়া স্থলবন্দরে ভারতে ভ্রমণকারীদের এ চিত্র প্রতিনিয়তই। এ রকম বেহাল অবস্থার মধ্যেই ইমিগ্রেশনকারীরা প্রতিনিয়ত যত্রতত্র গুরুত্বপূর্ণ কাজ সারছেন। যাত্রী সংখ্যা বাড়লেও সে তুলনায় বাড়েনি সমন্বিত সুযোগ-সুবিধা। বলতে গেলে সেই মান্ধাতাআমলের ব্যবস্থাপনায়ই চলছে কার্যক্রম। এতে ভ্রমণকারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

২০১০ সালে চালুর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরটি পূর্বাঞ্চলের দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ বন্দর দিয়ে যাত্রী পারাপার বেড়েছে কয়েকগুণ। কিন্তু যাত্রী পারাপার বাড়লেও সেবার মান রয়ে গেছে আগের মতোই। এক কক্ষেই দুই দেশের ইমিগ্রেশনে ও ট্যাক্স কার্যক্রম চলছে। যাত্রীদের বসার জন্য নেই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। ফ্যান, বিদ্যুত্, টয়লেটের সমস্যাও প্রকট। স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাইরে যত্রতত্র বসে যাত্রীরা তাদের প্রয়োজনীয় কাজ সারছেন।

সরেজমিনে গেলে ভারতে ভ্রমণকারী বেশ কয়েকজন যাত্রী জানান, আমাদের ইমিগ্রেশনে কাঠামোগত সমস্যায় আমরা ভুগছি। যে পরিমাণ যাত্রীর চাপ রয়েছে সে তুলনায় এখানকার দায়িত্বপ্রাপ্তরা সেবা দিতে অনেকটাই হিমশিম খাচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পূরণ করার জন্য সুবিধাজনক কোনো জায়গা নেই। সব মিলিয়ে বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। পার্শ্ববর্তী ভারতের ইমিগ্রেশনের সকল কাজকর্ম এক ছাদের নিচেই হচ্ছে।

আখাউড়া স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা খোরশেদ আলম জানান, যাত্রীরা যাতে সহজভাবে ইমিগ্রেশন করতে পারে সেজন্য ইমিগ্রেশন আধুনিকায়ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খান জানান, একত্রিত সুবিধার অভাব থাকলেও আমরা সমন্বিত বৈঠক করে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালুর কথা ভাবছি।