কুলাউড়া উপজেলা সদরের ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে রোগীরা চিকিত্সাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কুলাউড়া উপজেলার ৫ লাখ অধিবাসী ও পার্শ্ববর্তী জুড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনডোর চালু না হওয়ায় এ দুটি উপজেলার অর্ধশত চা-বাগানের শ্রমিক ও পাহাড়ি উপজাতি জনপদের লোকদের চিকিত্সাসেবার অন্যতম ভরসা কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তাছাড়াও বিয়ানীবাজার-ঢাকা ব্যস্ততম সড়কের পাশে অবস্থিত এ কমপ্লেক্সে প্রায়ই দুর্ঘটনাকবলিত রোগীরা চিকিত্সা নিতে আসেন। এ কমপ্লেক্সের আউটডোরে প্রতিদিন ৪ শতাধিক রোগী চিকিত্সার জন্য ভিড় করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এ চিকিত্সাকেন্দ্রে বর্তমানে ৩৮ জন চিকিত্সকের স্থলে কর্মরত আছেন মাত্র পাঁচ জন। গাইনি, চক্ষু, অর্থোপেডিক্স, শিশু, রেডিওগ্রাফার, এক্সরে টেকনিশিয়ানসহ গুরুত্বপূর্ণ পদসহ ইউনিয়ন পর্যায়ে ১৪ জন মেডিক্যাল অফিসারের পদ দীর্ঘদিন যাবত্ শূন্য রয়েছে। বতর্মান সরকার চিকিত্সাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর জন্য উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে আটটি পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ও পাঁচটি স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র চালু করে। এগুলোর কোনোটিতেই বর্তমানে ডাক্তার নেই। তাছাড়া কর্মচারীর ২৬ পদ শূন্য।
তাছাড়া অনেক বছর ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল্যবান এক্সরে মেশিন কক্ষবন্দি হয়ে নষ্ট হতে চলছে। থেরাপি টেকনিশিয়ান থাকার পরও উপযুক্ত যন্ত্রপাতির অভাবে এ বিভাগটি রোগীদের কোনো কাজে আসছে না। ফলে বাধ্য হয়ে রোগীদের প্রাইভেট থেরাপি সেন্টারে যেতে হয়। কমপ্লেক্সে উন্নত যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ একটি অপারেশন থিয়েটার থাকার পরও সার্জন ও অ্যানেসথেটিস্টের অভাবে প্রসূতি মায়েরা সেবা পাচ্ছে না। তাদের বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা গুনতে হচ্ছে। গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা নিতে আসা রোগী লিটন মালাকার, মাহফুজ আহমদ, মোহিত মিয়া, বাদল দাসসহ কয়েকজন জানান, এ কমপ্লেক্সে ডাক্তার ও ওষুধ কোনোটাই পাওয়া যায় না।
অসুবিধার কথা স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. জাকির হোসেন জানান, ওষুধ আছে কিন্তু চিকিত্সকের অভাবে সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূরুল হক জানান, জনবলের অভাবে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ সব সমস্যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য সুলতান মো. মনসুর আহমদ জানান, ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য থাকাকালে হাসপাতালটি ৩৫ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নিত করা হয়েছিল। বর্তমানে হাসপাতালটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। এ সব সমস্যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে।