প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের সংগ্রামের জোনের সোনাইছড়ি ও যাদুখালী ছড়ায় চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। স্থানীয় একটি চক্র পাহাড়ি জনপদের প্রবাহমান দুইটি ছড়াখাল থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবাধে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগে জানা গেছে। একইভাবে ছড়ার আশপাশ এলাকার আরো পাঁচটি পয়েন্ট থেকে বর্তমানে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে ঐ এলাকার পরিবেশ ও জনবসতি হুমকির মুখে পড়েছে।
অভিযুক্ত চক্রটি দক্ষিণ চট্টগ্রাম বনবিভাগের অধীন সংরক্ষিত বনভূমির জায়গা থেকে প্রবাহমান ছড়ায় একাধিক মেশিন বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এসব বালু উত্তোলন করছে। বালু উত্তোলন করতে গভীর পাহাড়ি দুর্গম স্থানকে বেছে নিয়েছে তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলামসহ পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসকারী লোকজন জানান, বালু খেকোরা চলতি বর্ষার সময় সবচেয়ে বেশি বালুর স্তূপ তৈরি করেছে। আবহাওয়া অনুকূল হলে এসব বালু পাহাড়ের উঁচু ভূমি ও সমতল ভূমির ওপর দিয়ে আঁকাবাঁকা সড়ক হয়ে পাচার হচ্ছে এসব বালু। প্রতিনিয়ত পাহাড়ি ছড়া থেকে বালু পাচার হওয়ায় চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বনাঞ্চল হুমকির মধ্যে পড়েছে। স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহলের অভিযোগ, বালু উত্তোলনের কারণে বর্তমানে একদিকে উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চল অন্যদিকে ছড়ার গতি পরিবর্তন হচ্ছে। এতে করে ছড়ার দুইপাশ বিস্তৃতি ঘটিয়ে পার্শ্ববর্তী স্থানের উঁচু-নিচু পাহাড় ও টিলাগুলোতে ভাঙনের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে পরিবেশ ও প্রকৃতি চরম বিপন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
পরিবেশ কর্মীদের দাবি, বালু খনিজ সম্পদ। পাহাড়ি ছড়া থেকে বালু তোলা হলেও সরকার এসব থেকে কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে কোনো রকম অনুমতি না নিয়ে তারা অহরহ বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। স্থানীয় সংগ্রামের জুমের বনায়নে উপকারভোগীরা জানায়, স্থানীয় বনবিভাগ ব্যক্তিরা এসব দেখেও না দেখার ভান করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানিয়েছেন, বালু উত্তোলনে জড়িতরা বনবিভাগের কতিপয় অসাধু লোকের সঙ্গে যোগসাজশ করে ছড়ার পাঁটি পয়েন্টে মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করছে।
লোকজন নিয়মিত মাসোহারা নিচ্ছেন। ফলে এ সুযোগে অভিযুক্ত চক্রটি বিনা বাঁধায় দিব্যি বালি উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। সংগ্রামের জুম পাহাড় থেকে যে বালি পাচার করছে এ সবের মূল ইন্ধনদাতা খোদ বনবিভাগের কর্তাবাবু। তারা চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তাকে এ সবের জন্য দায়ী করেছেন। টইটং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, চলতি বর্ষা মৌসুমে টইটং ইউনিয়নের পূর্ব টইটং সংগ্রামের জুম নামক স্থানে চলছে বালু উত্তোলন। সোনাইছড়ি ছড়ার দুর্গম পাহাড়ি স্থানে প্রচুর বালুর স্তূপ হয়েছে। বর্ষার সময় ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট ঢলের পানিতে বালু নিচের দিকে নেমে আসে। বৃষ্টির সময় বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত চক্রটি সক্রিয় হয়ে উঠে। ফলে ঐসময় ছড়াখালে পানির প্রবাহের সঙ্গে বালুর প্রাপ্যতা নিশ্চিত হয়।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল গফুর মোল্লা বলেন, সংগ্রামের জোন এলাকার সোনাইছড়ি ও যাদুখালী ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ঘটনাটি ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি। সরেজমিন তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেব। তবে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ছড়াখালের ঐ মোকাম থেকে বালু উত্তোলন হচ্ছে।