পাহাড়ি ছড়া থেকে সিলিকা বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ থাকলেও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে তা থেমে নেই। স্থানীয় পাহাড়ি ছড়া থেকে একটি প্রভাবশালী চক্র প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন করে চলছে। ফলে ছড়ার বাঁধ ও সংলগ্ন রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঘটছে পরিবেশের বিপর্যয়। আলীনগর ইউনিয়নের সুনছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে পরিবহনের সময় বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় আলীনগর ইউনিয়নের চিিলয়া গ্রাম থেকে পুলিশ বালুভর্তি দুটি ট্রলি জব্দ করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সুনছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন স্থানে পরিবহনের অভিযোগ পেয়ে দুই সপ্তাহ আগে কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন চৌধুরী অভিযান চালিয়ে প্রচুর পরিমাণে বালু জব্দ করেন। এ ঘটনার পর আবারও সুনছড়া থেকে বালু উত্তোলন করে পরিবহনের সময় কমলগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু জব্দ করে চিিলয়া গ্রামে অভিযান চালায়। পুলিশি অভিযান টের পেয়ে বালু ভর্তি দুটি ট্রলি রাস্তার ধারে রেখে চালকরা পালিয়ে যায়। পরে বালু ভর্তি ট্রলি দুটি কমলগঞ্জ থানায় নিয়ে জব্দ করা হয়।
আলীনগর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, একটি মহল সুনছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) এক অভিযানে বালু জব্দ করে আমার জিম্মায় রাখার পরও আবার চক্রটি সুনছড়া থেকে বালু উত্তোলন করে ট্রলিযোগে পরিবহন করছে। স্থানীয়রা বলেন, উপজেলার সুনছড়া, জপলাছড়া, ধামালিছড়া, দেওছড়া, পদ্মছড়া, লাউয়াছড়াসহ বিভিন্ন ছড়া থেকে গোপনে বালু উত্তোলন করে ট্রলি ও ট্রাকযোগে নিয়মিত বিক্রি করা হচ্ছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যের মাধ্যমে খবর পেয়ে বালুভর্তি দুটি ট্রলি জব্দ করার জন্য থানার ওসিকে নির্দেশনা দেই। প্রয়োজনে এ ঘটনায় ভূমি অফিসের মাধ্যমে মামলা করা হবে। কমলগঞ্জ থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান দুই ট্রলি বালু জব্দের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।