সানডেকে নিয়েই কোরিয়ায় যাচ্ছে আবাহনী

সংশয় দুশ্চিন্তাই যাই হোক না কেন আবাহনী একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছে। কারণ, সানডেকে নিয়েই উত্তর কোরিয়ার এপ্রিল টোয়েন্টি ফাইভ দলের বিপক্ষে ফিরতি খেলায় লড়াই করবে আবাহনী। ২৮ আগস্ট ম্যাচ। সেই লড়াইয়ে সানডেকে পাচ্ছে সেটা আবাহনীর সূত্র নিশ্চিত করছে। আজ গভীর রাতে ঢাকা ছাড়বে আবাহনী। পরদিন অন্য একটি ফ্লাইটে সানডে ঢাকা ছাড়বে। আবাহনী যখন চীনের বেইজিং হতে কানেন্টিং ফ্লাইট ধরবে ততক্ষণে সেখানে পৌঁছে যাবেন সানডে। সবাই এক সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ং ইয়ংয়ে পা রাখবেন। আবাহনীতে এই নিয়ে দারুণ একটা স্বস্তির বাতাস বইছে। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে মিশরীয় ডিফেন্ডার আলাদিন নাসেরের খেলার নিশ্চিয়তা। ঢাকায় হোম ম্যাচটা খেলতে পারেননি তিনি। আগের এএফসি কাপে মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টস ক্লাবে খেলতে গিয়ে লালকার্ড পেয়েছিলেন তিনি। যে কারণে আবাহনীর জার্সি গায়ে এএফসি কাপে হোম ম্যাচটা খেলতে পারেননি। মিশরের আলাদিন নাসের, নাইজেরিয়ার সানডে চিজোবা, হাইতির বেলফোর্ট এবং দক্ষিণ কোরিয়ার লি কে মিন। এই চার বিদেশি নিয়েই এএফসির ইন্টার জোনাল সেমিফাইনালের ফিরতি ম্যাচে এপ্রিল টোয়েন্টি ফাইভের বিপক্ষে খেলবে আবাহনী।

বিদেশি খেলোয়াড়দের পেয়ে আবাহনীর পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমোস দারুণ খুশি। কাল বিকালে বৃষ্টিভেজা আবাহনীর মাঠে যখন খেলোয়াড়দের নিয়ে অনুশীলন করছিলেন লেমোস ছিলেন খুব ফুরফুরে। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে লেমোস বললেন, ‘আমি এবারই প্রথম পুরো শক্তির দল নিয়ে অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে যাচ্ছি।’ 

পর্তুগিজ কোচ আবাহনীর সবচেয়ে বড় শক্তি। খেলোয়াড়রা বলেন লেমোস ম্যাচ বিশ্লেষণ করার ওস্তাদ।

বেলফোর্ট, রায়হান, জীবন, ওয়ালী ফয়সাল, সোহেল রানা, গোলকিপার সোহেল, জুয়েল রানা, সবার মন্তব্য কোচের পক্ষে। প্রতিপক্ষের ম্যাচ ভিডিও দেখানোর জন্য খেলোয়াড়দের সেলফোনে পাঠানো, ব্ল্যাক বোর্ডে এঁকে দেখানো কোথায় কোন পজিশনে দাঁড় করানো হয়। কীভাবে খেললে ম্যাচ জেতা যাবে। সবই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে করতে পারেন এই কোচ। এরপর ছেড়ে দেন খেলোয়াড়দের ওপর। হোম ম্যাচ জিতে আসায় এখন অ্যাওয়ে ম্যাচ জয়ের কথা বলেছেন কোচ। কাল বিকালে অনুশীলন মাঠে দাঁড়িয়ে কোচ বললেন,‘ড্র নয়। আমরা জয় নিয়ে ফিরতে চাই।’

ইন্টার জোন সেমিফাইনালে আবাহনী ৪-৩ গোলে হারিয়েছে এপ্রিল টোয়েন্টি ফাইভ দলকে। ফিরতি ম্যাচে আবাহনী ড্র করলেই চলবে। কিন্তু অধিনায়ক সোহেল, স্ট্রাইকার নাবীব নেওয়াজ জীবন এবং কোচ লেমোস সবার কথা জয় নিয়ে ফিরতে চাই।

কোরিয়ায় টার্ফের মাঠে খেলা হবে। কিন্তু ঘাসের মাঠ আর টার্ফের মাঠে পার্থক্য দেখন না আবাহনীর কোচ। তবে একটা অপরিচিত পরিবেশে একটা ভয় কাজ করে তার। নানা রকমের বিধি-নিষেধের কারণে।

উত্তর কোরিয়ায় যাচ্ছেন দক্ষিণ কোরিয়ার লি কে মিন। এই ফুটবলার জানালেন তিনি কখনোই উত্তর কোরিয়ায় যাননি। তাই তার কাছে উত্তর কোরিয়ায় যাওয়াটা বাড়তি রোমাঞ্চকর মনে হচ্ছে। সানডে খুব একটা কথা বলতে চান না। তার মেজাজটা একটু কেমন যেন। শেষ পর্যন্ত অনিশ্চিয়তা কাটিয়ে সানডের যাওয়া যাচ্ছে এমন প্রসঙ্গে তুলতে সবকিছু এড়িয়ে সানডে বললেন,‘যাব তো খেলতে। ক্যারিয়ার সেরা খেলাটা খেলব।’