সেঞ্চুরির কথা ভাবেননি রাহানে

অ্যান্টিগা টেস্টে অপ্রত্যাশিত বিপদে পড়েছিল ভারত। টেস্ট শুরু হতে না হতেই ধসে পড়েছিল তাদের বিখ্যাত ব্যাটিং লাইন আপ। ২৫ রানে হারিয়ে ফেলেছিল তারা ৩ উইকেট। আর এখান থেকে ভারতকে টেনে তোলেন আজিঙ্কা রাহানে। শেষ পর্যন্ত ভারত ৬ উইকেটে ২০৩ রান নিয়ে দিন শেষ করেছে। কিন্তু রাহানে ১৯ রানের জন্য মিস করেছেন টেস্ট সেঞ্চুরি।

দিনের খেলাশেষে ভারতের এই সহ-অধিনায়ক বলছিলেন, সেঞ্চুরি নিয়ে তিনি ভাবেননি। তার ও লোকেশ রাহুলের জুটি যে দলের ধস ঠেকাতে পেরেছে, তাতেই খুশি তিনি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ নতুন বলে কাঁপিয়ে দিয়েছিল ভারতকে। কেমার রোচ পঞ্চম ওভারে দুই উইকেট তুলে নেন। এরপর শ্যানন গ্যাব্রিয়েল তুলে নেন বিরাট কোহলির উইকেট। এখান থেকে ৬৮ রানের জুটি করে ধসটা সামাল দেন রাহানে ও রাহুল।

দিনশেষে কথা বলতে গিয়ে রাহানে বলছিলেন, দিনের শুরুতে এখানে ব্যাটিং করাটা খুব কঠিন ছিল, ‘আমাদের ইনিংসের শুরুতে উইকেট খুব ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এটা খানিকটা স্পঞ্জি ছিল। এছাড়া সারা দিন ধরে ওরা খুব ভালো বল করছিল। সেই সময় আমাদের জন্য যেটা জরুরি ছিল, সেটা হলো একটা জুটি করা এবং ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাওয়া। এর চেয়ে বেশি কিছু নিয়ে আমরা ভাবছিলাম না। আমাদের তখন চিন্তা ছিল, একটা একটা করে বল খেলা এবং ওখান থেকে এগিয়ে যাওয়া।’

রাহানে বলছিলেন, ঐ সময়টায় রোচ অসাধারণ বল করছিলেন। সেটা সামলানো যে কারো জন্য কঠিন ছিল, ‘রোচ আসলেই খুব ভালো বল করছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আপনাকে প্রতিপক্ষকে সম্মান দিতেই হবে। কেমার রোচ ও জেসন হোল্ডার প্রথম স্পেলে খুব ভালো বল করেছে। আমরা ওদের সম্মান দেখিয়েছি এবং ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করেছি। আমি মনে করি আমার ও রাহুলের মধ্যে যোগাযোগটা খুব ভালো ছিল।’

ভারতের স্কোর ৯৩ হতে রাহুল ৪৪ রান করে ফিরে যান। এরপর হনুমা বিহারিকে নিয়ে লড়েছেন রাহানে; দুই জনে করেছেন ৮২ রানের জুটি। বিহারির কথা বলতে গিয়ে রাহানে বলেছেন, ‘বিহারি এমন একজন খেলোয়াড়, যে রঞ্জি ট্রফিতে এবং প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অনেক রান করে এসেছে। ও জানে, এরকম পরিস্থিতিতে কীভাবে ব্যাট করতে হয়। আমরা এই খেলোয়াড়রা একসঙ্গে ইন্ডিয়া এ দলের হয়ে অনেক রান করেছি। আমরা জানি, এরকম পরিস্থিতিতে কী করতে হয়।’

শেষ পর্যন্ত উইকেট ও বোলারদের চ্যালেঞ্জ সামলে রাহানে ১৬৩ বলে ৮১ রানের ইনিংস খেলে গ্যাব্রিয়েলের আরেকটি শিকারে পরিণত হয়ে ফিরেছেন। রাহানে নিজে বলছিলেন, তার এই ইনিংসের পেছনে ভালো অবদান রেখেছে তার সাম্প্রতিক কাউন্টি অভিজ্ঞতা। যেখানে তিনি হ্যাম্পশায়ারের হয়ে খেলেছেন।