দেড় বছর বয়সি মিথিলা গত কয়েকদিন ধরেই ঠান্ডায় ভুগছে। রাতের বেলা যেন কষ্ট আরো বেড়ে যায়। খুব কান্নাকাটি করে। এভাবে তিন-চারদিন চলার পর মিথিলার মা সিদ্ধান্ত নিল ডাক্তারের কাছে যাবে। সন্ধ্যায় স্বামী বাসায় ফিরলে সবাই মিলে যান কাছের এক শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে। ডাক্তার বাচ্চাকে অনেকক্ষণ দেখার পর জানালেন বাচ্চা হাঁপানিতে ভুগছে। এ কথা শোনার পর মিথিলার মা আফরোজা আর বাবা শাহেদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। আফরোজা তো কান্নাই শুরু করে দিল।
ডাক্তার অনেক কষ্টে তাদের থামিয়ে জানালো অল্প কিছু ওষুধ আর কিছু নিয়ম মেনে চললেই হাঁপানি থেকে বাঁচা যায়। সেক্ষেত্রে বাচ্চার আর তেমন কোনো অসুবিধায়ই হয় না।
ঢাকা শিশু হাসপাতালের প্রফেসর ডা. খায়রুল আমিন বলেন, অনেক কারণে শিশুদের হাঁপানি হতে পারে। ঠান্ডা, তাপমাত্রার পরিবর্তন, ধুলোবালি থেকেও বাচ্চার হাঁপানি হতে পারে। অনেক সময় ধুলোবালি অনেক বাচ্চাই সহ্য করতে পারে না। মূলত ধুলোবালি থেকে অ্যালার্জির কারণে তাদের হাঁপানি হয়। এক্ষেত্রে বাচ্চাদের ধুলোবালি থেকে দূরে রাখতে হবে। এছাড়া এসব বাচ্চাদের আঁশ জাতীয় পুতুল বা তাদের ব্যবহারের জন্য লোমযুক্ত কম্বল দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, খাবারের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। অনেক বাচ্চারই কিছু কিছু খাবার থেকে এলার্জি থাকতে পারে। সে সব খাবার কোনোভাবেই বাচ্চাকে খাওয়ানো যাবে না। এছাড়াও হাঁপানি যদি বেশি হয় তবে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন ওষুধ সেবন এবং নেবুলাইজার করানো যেতে পারে।
একই হাসপাতালের প্রফেসর ডা. মনির হোসেনের মতে, শিশুকে হাঁপানি থেকে বাঁচানো না গেলেও এটা প্রতিরোধ করলে বাচ্চা সারাজীবন সুস্থভাবে বেঁচে থাকে।
তিনি বলেন আমরা বিশেষ করে বাবা-মা যদি একটু সচেতন হয় তবে বাচ্চাকে হাঁপানি অথবা অ্যাজমা থেকে দূরে রাখা যায়। এজন্য দরকার সচেতনতা। বাচ্চার সামান্যতম শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলেই তা নিয়ে বসে না থেকে অথবা নিজে নিজে চিকিত্সা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমাদের দেশে কোনো অসুখ হলে প্রথমে আমরা নিজেরাই নিজেদের চিকিত্সা শুরু করি। আর এতে ভালো না হলে তবেই ডাক্তারের শরণাপন্ন হই। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। শিশুদের বেলায় তো কোনোভাবেই কাম্য নয়। যে কোনো ধরনের সন্দেহ হলেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে গিয়ে তার পরামর্শ অনুযায়ী চলার মত দেন এই বিশেষজ্ঞ ডাক্তার।
(বাসস ফিচার)