পাশ পারমিট বন্ধ

সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল হাজারও জেলে পরিবারের মানবেতর জীবন

পাশ পারমিট বন্ধ থাকায় সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে পরিবারের দিন কাটছে অর্ধাহার-অনাহারে। ফলে বন সংলগ্ন উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার জেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভুক্তভোগী জেলেরা জানিয়েছেন, সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় মোংলা, দাকোপ, পাইকগাছা, কয়রা ও শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার জেলে বনে মাছ ও কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। কিন্তু দীর্ঘদিন মাছের পাশ পারমিট বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি পাশ দেওয়া শুরু হলেও পুনরায় আবার মাছ ও কাঁকড়ার পাশ বন্ধ করে দেওয়ায় সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার জেলে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে এসব জেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্ধাহার-অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পাশাপাশি ডিপো মালিক ও মহাজনরাও বেকার হয়ে পড়েছেন।

দাকোপের কালাবগী এলাকার জেলে আব্দুল ছালাম মোল্যা, ফয়েজ আলী মোল্যা, শাহাজান ফকির, পরিমল মন্ডল, ঝন্টু মন্ডল, প্রকাশ মন্ডল, ইমান মোল্যা, রফিক বৈদ্য, লুত্ফর মোল্যা, মোহন্ত মন্ডলসহ আরো অনেকে জানান, বছরের শুরুতে যদি বিএলসি নবায়ন না হতো তাহলে আমরা বিকল্প আয়ের পথ বেছে নিতাম। এমন এক সময় এসে পাশ পারমিট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে যে আমাদের বিকল্প আয়ের কোনো পথ খোলা নেই। আমরা এমন একটা অবস্থার মধ্যে পড়েছি পরিবার-পরিজন নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এমনকি অনেক সময় অর্ধাহার-অনাহারে দিন কাটছে। আর অধিকাংশ জেলে পরিবারে ঈদের আনন্দ কেটেছে চোখের জলে। তারা ঊর্ধ্বতন মহলের কাছে অতিদ্রুত পাশ পারমিট চালুর দাবি জানিয়েছেন।

চালনা বাজারের ডিপো মালিক খোকন রায় জানান, সুন্দরবনে জেলেদের পাশ পারমিট বন্ধ থাকায় মাছ ও কাঁকড়া কিনতেও পারছি না, বিক্রিও করতে পারছি না। এতে একপ্রকার বেকার হয়ে পড়েছি। তাছাড়া জেলেদের লাখ লাখ টাকা দাদন দেওয়া রয়েছে। ফলে অনেক টাকা লোকসান খেয়ে বসে আছি। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. আবু সালে বলেন, সম্প্রতি পাশ পারমিট চালু হওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে আর অল্প কিছুদিনের মধ্যে আবার চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।