জামালপুরের জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সঙ্গে তার অফিসের এক নারী কর্মচারীর আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরকে ঐ নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে ‘বানোয়াট ভিডিও’ বলে দাবি করেছেন জেলা প্রশাসক আহাম্মেদ কবীর।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি যেখানে ধারণ করা, সেটি ডিসির চেয়ারের পাশঘেঁষা ছোটো একটি কক্ষ। সেখানে একটি ছোটো খাট বসানো হয়েছে। ভিডিওর নারী এই জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া এক জন অফিস সহায়ক (পিয়ন)। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে খন্দকার সোহেল আহমেদ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি পোস্ট কর হয়। সেখান থেকে এটি ইউটিউবসহ অন্যান্য মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়লে জেলার সর্বত্র আলোচনার ঝড় বয়ে যায়। এর দৈর্ঘ্য ৪ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড।
সার্বিক বিষয়ে জানতে গতকাল শুক্রবার সকালে সাংবাদিকরা ডিসির বক্তব্য জানতে তার বাসায় গেলে তিনি দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বক্তব্য দেবেন বলে জানান। দুপুরে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সার্কিট হাউজে সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ‘আমি মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত। আপনারা আমাকে একটু সময় দেবেন এবং ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। প্রকৃত ঘটনা জানতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ ভিডিওটি কার জানতে চাইলে ডিসি বলেন, ‘এটি সাজানো ভিডিও। একটি হ্যাকার গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে আমাকে ব্ল্যাক মেইল করার চেষ্টা করছিল। তখন আমি বিষয়টি গুরুত্ব দেইনি।’ তবে ভিডিওতে দেখতে পাওয়া কক্ষটি তার অফিসের বিশ্রাম নেওয়ার স্থান এবং ঐ নারী তার কার্যালয়ের পিয়ন হিসেবে কর্মরত বলে তিনি স্বীকার করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের এ বিষয়ে সংবাদ পরিবেশন না করার জন্য অনুরোধ জানান।
আহমেদ কবীর জামালপুরে ডিসি হিসেবে যোগদান করেছেন ২০১৭ সালের ২৭ মে। যোগদানের কয়েক দিন পর থেকে তিনি ঐ ছোটো রুমটি বিশ্রামসহ ব্যক্তিগত কাজের জন্য ব্যবহার করে আসছেন।