মশা নিধনে প্রতিবন্ধকতা

মশার উপদ্রব হইতে রাজধানীবাসীকে বাঁচাইবার জন্য গত মাসে আমরা একটি সম্পাদকীয় লিখিয়াছিলাম। ইহাতে যে কোনো কাজ হয় নাই তাহা আমরা বলিতেছি না। বিশেষ করিয়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কর্তৃপক্ষ তাহাদের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বর ফলাও করিয়া প্রচার করেন এবং ঘোষণা করেন যে, তাহাদের নির্দিষ্ট নম্বরে যোগাযোগ করিলেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় গিয়া মশার ঔষধ ছিটানো হইবে। গত বৃহস্পতিবার ইত্তেফাকে প্রকাশিত এই সংক্রান্ত এক রিপোর্টে এই করপোরেশনের তিনটি অঞ্চলের নির্বাহী কর্মকর্তাদের মোবাইল নম্বরও প্রদান করা হইয়াছে। মোবাইল নম্বর প্রদান করায় এখন যোগাযোগ করা সহজ হইয়া গিয়াছে। আমরা আশা করি, ভুক্তভোগী নাগরিকগণ এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করিবেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকেও এই ধরনের উদ্যোগ নিতে হইবে। এমনকি ঈদুল আজহার সময় ডিএসসিসি ফেসবুকের মাধ্যমে কুরবানির বর্জ্য অপসারণে নাগরিকদের মাঝে যে বিপুল সাড়া পাইয়াছে, মশক নিধন কর্মসূচিতেও সেই জনপ্রিয় মাধ্যম ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা আছে বৈকি।

মশক নিধনে সিটি করপোরেশনের এমন ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার পরও এইক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার অবসান হইতেছে না। কেহ কেহ বলিতেছেন যে, মশা মারিবার ঔষধ ছিটানোর পরও মশার উত্পাত বন্ধ হইতেছে না। কারণ যে ঔষধ ছিটানো হইতেছে তাহা হয় ভেজাল নতুবা মশার দল সেই ঔষধের বিপরীতে নিজেদের অস্তিত্বের লড়াইয়ে প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করিয়াছে। বিষয়টি গভীরভাবে ভাবিয়া দেখা দরকার। এই ব্যাপারে বিশেষজ্ঞগণই ভাল বলিতে পারিবেন। এইজন্য যেসব এলাকায় ঔষধ ছিটানো হইতেছে সেখানে ইহার পর মশা কতটা বংশবিস্তার করিতেছে তাহা নিয়া প্রয়োজনে গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। ইহাছাড়া মশা নিধনে জনবল ও সরঞ্জামাদির সংকট নূতন নহে। জানা মতে, এইজন্য ডিএনসিসিতে জনবল রহিয়াছে ৩০০ জন। ইহার বিপরীতে মশা নিধনে ঔষধ ছিটানোর জন্য হস্তচালিত মেশিন রহিয়াছে ৫৬৭টি। তন্মধ্যে আবার ২৫০টি মেশিনই অকেজো। অন্যদিকে ৩১৫টি ফগার মেশিনের ৬০টি ও ২২টি হুইল ব্যারোর ১২টি অকেজো। ডিএসসিসির অবস্থাও ভাল নহে। সেখানে ৩০৯ জন জনবল থাকিলেও হস্তচালিত ৫৬২টি মেশিনের ২১২টি, ৪৫২টি ফগার মেশিনের ২১২টি ও ৫১টি হুইল ব্যারোর মধ্যে ৩০টি অকেজো। অর্থাত্ দুই সিটি করপোরেশনের অধিকাংশ মেশিনই নষ্ট। সুতরাং ঢাল-তলোয়ার না থাকিলে মশক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে সফলতা আসিবে কিভাবে? এইসব সরঞ্জামাদির মেরামত, উন্নয়ন ও সংখ্যা বৃদ্ধিতে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

শুধু ঢাকা মহানগরই নহে, অন্যান্য মহানগরগুলিতেও মশক নিধন কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা। ইহাকে অবহেলা করিবার অবকাশ নাই। গত কয়েক বত্সর ধরিয়া মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ যেমন ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি বৃদ্ধিতে জনমনে আতঙ্ক কাজ করিতেছে। এই বত্সরও বর্ষাকালে এই আতঙ্ক পুরাদস্তুরই ছিল। এখন শীতকালে কিউলেক্স মশার উপদ্রব বাড়িয়া গিয়াছে যাহা অনুপেক্ষণীয়। কয়েল, মশারি কোনো কিছুতেই মানুষ শান্তি পাইতেছেন না। এই ব্যাপারে পর্যাপ্ত জনবল ও সাজ-সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য এই সংক্রান্ত বাজেট বৃদ্ধিরও দাবি রাখে। তাহাছাড়া রাজধানীর নূতন অন্তর্ভুক্ত ও সম্প্রসারিত এলাকায়ও এই সেবা দ্রুত পৌঁছাইয়া দেওয়া একান্ত দরকার।