ক) কত সালে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয় ? খ) বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদ বলতে কী বোঝায় ? গ) ছয় দফার কোন দাবি চিত্র ক-এ প্রদর্শিত তথ্যের আলোকে উত্থাপিত হয়েছিল তা ব্যাখ্যা করো। ঘ) ‘চিত্র-খ এ প্রদর্শিত বৈষম্যের কারণেই ছয়দফা দাবি তোলা হয়েছিল।’ ুতুমি কি এ বক্তব্যের সাথে একমত ? তোমার উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর : ক) ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয় ।
উত্তর : খ) বাংলা ভাষা, ইতিহাস,ঐতিহ্য -সংস্কৃতি ও বাঙালি জাতিগত পরিচয়ে ঐক্য গঠিত হয়। এই জাতীয় ঐক্যই বাঙালি জাতীয়তাবাদ। এ বাঙালি জাতীয়তাবাদই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনে জনগণকে অনুপ্রাণিত করে। বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এবং এর সফল পরিণতি ঘটে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে।
উত্তর : গ) ছয়দফায় আধা সামরিকবাহিনী গঠনের দাবিটি চিত্র ‘ক’-এ প্রদর্শিত তথ্যের আলোকে উত্থাপিত হয়েছিল। প্রদর্শিত ‘ক’ চিত্রে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, উল্লিখিত পাঁচটি সেক্টরে নিয়োগ বৈষম্যের এক বাস্তব চিত্র। কেন্দ্রীয় সিভিল সার্ভিসে নিয়োগের ক্ষেত্রে শতকরা ১৬ জন পূর্ব পাকিস্তান থেকে এবং শতকরা ৮৪ জন পশ্চিম পাকিস্তান থেকে নিয়োগ পেত। ফরেন সার্ভিসে শতকরা ১৫ ভাগ পূর্ব পাকিস্তান থেকে এবং অপরদিকে শতকরা ৮৫ ভাগ পশ্চিম পাকিস্তান থেকে নিয়োগ দেয়া হতো। তাছাড়া স্থল বাহিনীতে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে শতকরা ৯৫ ভাগ এবং বাকী ৫ ভাগ নিয়োগ দেয়া হতো পূর্ব পাকিস্তান থেকে। পাইলট নিয়োগেও পশ্চিম পাকিস্তানকে অধিক প্রাধান্য দেয়া হতো। পূর্ব পাকিস্তান থেকে শতকরা ১১ জন এবং পশ্চিম পাকিস্তান থেকে শতকরা ৮৯ জনকে নিয়োগ দেয়া হতো। বিমান বাহিনীতে নিয়োগের ক্ষেত্রেও এ বৈষম্য পরিলক্ষিত হয়। পূর্ব পাকিস্তান থেকে শতকরা ৪ জন এবং পশ্চিম পাকিস্তান থেকে শতকরা ৯৬ জনকে নিয়োগ দেয়া হতো। ফলে পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তা ছিল হুমকির মুখে। আর আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যই ঐতিহাসিক ছয়দফাতে আধা সামরিক বাহিনী গঠনের দাবিটি উত্থাপিত হয়।
উত্তর : ঘ) ‘চিত্র-খ এ প্রদর্শিত বৈষম্যের কারণেই ছয়দফা দাবি তোলা হয়েছিল।’ আমি এ বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত । আমার উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হলো। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দৃশ্যমান এ বৈষম্য না থাকলে ঐতিহাসিক ছয়দফা দাবি উত্থাপনের কোন প্রয়োজনই ছিলনা। চিত্রে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, পাকিস্তান রাষ্ট্রের উন্নয়ন কাজে প্রাপ্ত বৈদেশিক মূদ্রার ২০% পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্ধ দেয়া হতো আর বাকি ৮০%পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নের জন্য ব্যয় করা হতো। মার্কিন সাহায্যের ৩৪%পূর্ব পাকিস্তানে আর ৬৬% পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যয় করা হতো। অন্যান্য বৈদেশিক সাহায্যের মাত্র ৪% পূর্ব পাকিস্তানের উন্নয়ন কাজে আর ৯৬% পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হতো। এভাবে পূর্ব পাকিস্তানের উন্নয়ন কাজ ব্যহত হয়। শিল্পোন্ন্য়ন কর্পোরেশনের ৪২% পূর্ব পাকিস্তানে আর বাকী ৫৮% পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যয় করত। শিল্পঋণ ও বিনিয়োগ বোর্ডের ২০% পূর্ব পাকিস্তানে আর ৮০% পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যয় করা হতো। তাছাড়া শিল্পোন্নয়ন ব্যাংকের ২৪% পূর্ব পাকিস্তানে আর ৭৬% ব্যয় করা হয় পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য। এইভাবে পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণনীতির কারণে পূর্ব পাকিস্তান শিল্পোন্নয়নে পিছিয়ে পড়ে। অতএব, বিষয়টি পরিষ্কার যে, দু -প্রদেশের প্রকট অর্থনৈতিক বৈষম্য আমাদের পিঠকে দেয়ালে ঠেকে দিয়েছিল। ফলশ্রুতিতে ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি উত্থাপনের কোন বিকল্প পথ পূর্ব পাকিস্তানের জন্য ছিল না।