ব্রিজ ও রাস্তা সংস্কার :অবহেলা কাম্য নহে

ত্রিশাল-ফুলবাড়িয়া সড়কে পোড়াবাড়ী বাজারের নিকটে খিরু নদীর ওপরে ১৯৮২ সালে নির্মিত হয় একটি বেইলিব্রিজ। আমরা সবাই জানি বেইলিব্রিজ একটি অস্থায়ী ব্রিজ। ইহার স্থায়িত্বকাল কম। মাঝে মধ্যে মেরামত করিলে তাহা কয়েক যুগ ধরিয়া ব্যবহার করা যাইতে পারে। তিন যুগ পর স্বাভাবিকভাবে এই ব্রিজটির অবস্থা এখন শোচনীয়। ইতোমধ্যে পাটাতনগুলি ভাঙিয়া চলাচলের জন্য ব্রিজটি অনুপযোগী হইয়া পড়িয়াছে। অথচ ইহা অত্র এলাকার যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। ফলে শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষ পড়িয়াছেন বিপাকে। ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ঘটিতেছে ছোটোখাটো নানা দুর্ঘটনা। অনেকে পাটাতন ভাঙিয়া নদীতে পড়িয়া গিয়া পঙ্গুত্বও বরণ করিয়াছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বেইলিব্রিজগুলির স্থলে এখন স্থায়ী কংক্রিটের ব্রিজ নির্মাণ করা হইতেছে। এই স্থলেও এমন একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ ছাড়া কোনো গত্যন্তর নাই। বাংলাদেশের ধারাবাহিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ার কারণে রাস্তাঘাটের ওপর চাপ ক্রমবর্ধমান। এই প্রেক্ষিতে বেইলিব্রিজ এখন এই দেশে অপ্রাসঙ্গিক। তাহার পরও যেসব স্থানের বেইলিব্রিজ মেরামতযোগ্য, তাহা দ্রুত মেরামত করিতে হইবে।

বেইলিব্রিজের স্থলে পাকা ব্রিজ নির্মাণ বা তাহার সংস্কার চাহিলেই করা যায় না। এইজন্য সংশ্লিষ্ট অফিস ও দপ্তরগুলিতে নিয়মিত ধরনা দিতে হয়। তাহা না পারিলে সাধারণ মানুষকে বত্সরের পর বত্সর দুর্ভোগ পোহাইতে হয়। আমরা মনে করি, এইজন্য সবচাইতে বড়ো দায়ী স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ঔদাসীন্য ও অবহেলা। রাস্তা সামান্য ভাঙিয়া গেলে বা কোনো ব্রিজের কোনো প্রকার ত্রুটি দেখা দিলে সর্বাগ্রে তাহাদেরই নজরে আসিবার কথা; কিন্তু তাহারা তাহাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন না। তাহা হইলে প্রশ্ন আসে, এমপি সাহেব, জেলা ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বাররা কী করেন? ইত্তেফাকের আরেকটি খবরে বলা হইয়াছে যে, টেন্ডারের দেড় বত্সর পরও কাজ শুরু না হওয়ায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ি উপজেলার খয়ের বাড়ি ইউনিয়নের রাস্তা স্থানীয় জনগণ বাধ্য হইয়া নিজেরাই স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার করিয়াছেন। এইখানেও সেই একই অবহেলা ও হতাশা পরিলক্ষিত। সরকার টাকা দিল উন্নয়নের জন্য আর সেই টাকা ব্যয় করা হইল না কেন? তাহা হইলে অর্থ বরাদ্দ করিয়া লাভ কী? জনপ্রতিনিধিদের বা দরকার কী? কোনো কোনো ক্ষেত্রে এমনও দেখা যায়, কাজ না করিয়াই বিল উঠাইয়া নেওয়া হইতেছে। যদিও এই প্রবণতা এখন অনেকটা কমিয়া গিয়াছে; কিন্তু এমন পুকুর চুরির ঘটনা এক-দুইটাই বা থাকিবে কেন? এমন অনিয়ম তদন্ত করিয়া দেখিতে দুদককে বলা হইলে অনেকে গোস্বা করেন; কিন্তু যেই ভয়াবহ অনিয়ম হয়, এমন উদ্যোগে তাহা হয়তো কিছুটা হইলেও লাঘব পাইবে, অর্থাত্ ভয় দেখাইয়া হইলেও তাহা হইতে দুর্বৃত্তদের কিছুটা নিবৃত্ত করা যাইবে। এইজন্য কেহ কেহ আবার র্যাব পাঠাইবারও পক্ষপাতী। দিনাজপুরের ঘটনায়ও দেখা যাইতেছে, ঠিকাদার কাজ না করিয়াই পালাইয়া গিয়াছে। বিষয়টি তদন্ত করিয়া দেখা দরকার। ভাবিয়া দেখা দরকার যে, বৃষ্টির কারণে সদ্য মেরামতকৃত রাস্তায় আবার নূতন করিয়া কীভাবে খানাখন্দ তৈরি হইতেছে? এই রাস্তা বা ব্রিজের স্থায়িত্ব নিয়া অধিক চিন্তা ও গবেষণার প্রয়োজন আছে বৈকি।