‘ঈদুল আজহার ছুটির ৯ দিনে সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ১৮৫ জন। এছাড়া আহত হয়েছে ৩৫৫ জন। ১৩৫টি দুর্ঘটনায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।’ গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা মুহাম্মদ আকরম খাঁ হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব লিটন এরশাদ। তিনি বলেন, এবারের ঈদে ১০ থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত সড়কপথে ১৩০টি, রেলপথে ২টি ও নৌপথে ৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, সংবাদ সংস্থা ও টেলিভিশন চ্যানেলে প্রকাশিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিআরটিএর সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান বলেন, ‘সরকার ১ লাখ দক্ষ প্রশিক্ষিত চালক তৈরি করার যে পরিকল্পনা নিয়েছে, সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে দক্ষ চালক তৈরি করতে হবে। এতে সরকারের যে পরিকল্পনা, প্রতি ঘরে একজনের কর্মসংস্থান করে দেওয়া, সেটা বাস্তবায়িত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামীম আলম দীপেন, যুগ্ম সম্পাদক বেলায়েত হোসেন নান্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আজাদ, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মিরাজুল মইন জয়সহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানো, ওভারটেকিং, ফিটনেসবিহীন ও পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী বহন, পণ্যবাহী যানবাহন বন্ধের নিষেধাজ্ঞা অমান্য, অদক্ষ চালক ও হেলপার দ্বারা যানবাহন চালানো, বিরামহীন ও বিশ্রামহীনভাবে যানবাহন চালানো, যানবাহনের শিডিউল বিপর্যয়, অতিরিক্ত যাত্রী বহনের প্রবণতা, মহাসড়কে অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, নসিমন-করিমন ও স্থানীয়ভাবে মোটরসাইকেলের অবাধ চলাচল, মহাসড়কে ছোটো যানবাহনের জন্য আলাদা লেন বা সার্ভিস রোড না থাকা, ঈদফেরত যাতায়াতে মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকা, সড়কের বেহাল দশা, গাড়ি না পেয়ে মোটরসাইকেলে যাত্রা, সড়কে নৈরাজ্য, নিয়ম না মানার প্রবণতা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়। আইন না মানা এবং একের বেশি যাত্রী নেওয়ার কারণে বেশিরভাগ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে।
সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে নিসচার প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে মনিটরিং শুধু ঈদের আগে করলেই হবে না, বরং ঈদ-পরবর্তী মনিটরিং করতে হবে। চালক-হেলপারসহ পরিবহন শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা ও বেতন নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত সড়কে দুর্ঘটনা বন্ধ করা যাবে না। কারণ তাদের মধ্যে একটি প্রতিযোগিতা তৈরি করা হয়, চালক প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স ইস্যু ও যানবাহনের ফিটনেস প্রদান পদ্ধতি আধুনিকায়ন করতে হবে।