ওয়াশিংটনে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সিনিয়র কর্মকর্তাদের বৈঠক চলছে। শুক্রবার বৈঠকে মার্কিন কর্মকর্তারা চীনকে বিতর্কিত দক্ষিণ চীন সাগরে সামরিকীকরণ বন্ধের আহবান জানান।
বৈঠকে চীনা কর্মকর্তারা দক্ষিণ চীন সাগরে চীন নির্মিত দ্বীপের পাশ দিয়ে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের চলাচলের নিন্দা জানান। দুই পক্ষের আলোচনায় বাণিজ্য যুদ্ধ, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা, স্বায়ত্তশাসিত তাইওয়ান, জিনজিয়াংয়ে উইঘুর মুসলিমদের ওপর নিপীড়নের বিষয়গুলোও উঠে আসে।
চীনের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বৈঠকে সতর্ক করেন পৃথিবীর বৃহত্তম অর্থনীতির দুটি দেশের জন্যই ক্ষতির কারণ হবে। দুইপক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করলেও গত কয়েকমাসে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের যে অবনতি হয়েছে তা থেকে উত্তরণের জন্য পথ বের করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈঠক শেষে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র স্নায়ুযুদ্ধে লিপ্ত হয়নি চীনের সাথে। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচিসহ অনেক বৈশ্বিক ইস্যুতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে একসাথে কাজ করতে হবে। বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জিম মাত্তিস এবং চীনের পলিটব্যুরো মেম্বার ইয়াং জিয়েচি ও চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়ে ফেংঘে অংশ নেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সাইবার হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিদ্যমান দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি চীন মেনে চলছে না বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার এ অভিযোগ করেন। সরকারি বেসরকারি ওয়েবসাইট এবং সফটওয়্যার হ্যাকিং বন্ধে চীনের সাথে চুক্তিটি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। চীন কি ২০১৫ সালে বারাক ওবামা এবং শি জিনপিং এর মধ্যে করা চুক্তি লঙ্ঘন করছে— এ প্রশ্নের জবাবে ঐ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, আমরা মনে করি চীন চুক্তিটি লঙ্ঘন করছে। তবে তিনি বলেন, চুক্তিটির পরে যুক্তরাষ্ট্রে সাইবার হামলা অনেক কমে গিয়েছিল। শুক্রবার বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগটি অস্বীকার করেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি নেই।
দক্ষিণ চীন সাগরে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধজাহাজ খুব কাছাকাছি চলে আসার পর অল্পের জন্য সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। খবরে বলা হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত চীনের যুদ্ধজাহাজটি মার্কিন রণতরীকে গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী বলছে, চীনা জাহাজটি তাদের রণতরীর এতোটাই কাছে পৌঁছে গিয়েছিল যা কোনোভাবেই ‘নিরাপদ নয় এবং অপেশাদারসুলভ।’
দক্ষিণ চীন সাগরের এ জলসীমা ও দ্বীপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বহু বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। ওই জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ চলাচলের ঘটনা নিয়ে চীনের সাথে প্রায়শই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এশিয়ার আরো কয়েকটি দেশের সাথেও এ সব রিফ ও দ্বীপের মালিকানা নিয়ে চীনের সাথে বিরোধ রয়েছে। একইসাথে তাইওয়ান, ফিলিপাইন, ব্রুনাই, মালয়েশিয়া এবং ভিয়েতনাম এই জলসীমা তাদের নিজেদের বলে দাবি করে থাকে। জাহাজ চলাচলের জন্য এ এলাকাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট। চীন দক্ষিণ চীন সাগরের যে এলাকাটি তাদের নিজেদের বলে দাবি করে সেটি সাগরের বিস্তৃত একটি এলাকা। এ অংশের নাম ‘নাইন-ড্যাশ লাইন।’
বেইজিং এর পক্ষ থেকে প্রায়শই অভিযোগ করা হয় যে, যুক্তরাষ্ট্র ওই এলাকায় হস্তক্ষেপ করে আঞ্চলিকভাবে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করে থাকে। এ অভিযোগ সব সময়ই অস্বীকার করে এসেছে ওয়াশিংটন।