দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া ও বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৯জন চিকিত্সককে কারণ দর্শানোর জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালের চিকিত্সকদের কর্মস্থলে সকাল ৮টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে ঘন ঘন অনুপস্থিতি, বিলম্বে কর্মস্থলে উপস্থিতি এবং বায়োমেট্রিক হাজিরা দিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার অভিযোগে তাদেরকে নোটিশ দেওয়া হয়। তিন কার্যদিবসের মধ্যে (সোমবার) তাদের জবাব দাখিলের জন্য বলা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাহাদাত হোসাইন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ঐ দুইটি হাসপাতালে গিয়ে চিকিত্সকদের উপস্থিতি ও জনগণের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হয় এবং শনিবার দৈনিক ইত্তেফাকে ‘হাজিরা দিয়ে চলে গেছেন আরএমও, রোগী দেখেন কমিউনিটি চিকিত্সক’—শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন মহলে তোলপাড় শুরু হয়।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, বায়োমেট্রিক হাজিরা অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. হাসিনা সুলতানা সকাল ৯টা ৫০ মিনিট ৪২ সেকেন্ড, ডেন্টাল সার্জন ডা. খুরশিদা রহমান ১০টা ১৮ মিনিট ২৫ সেকেন্ড, ডা. মো. এনামুল হক ৯টা ৫০ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড, ডা. শাহিদা আক্তার ১০টা ৩৯ মিনিট ২৩ সেকেন্ড, ডা. তাছলিমা বেগম ১০টা ৫৯ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড, ডা. মোহাম্মদ সোহেল রানা ১১টা ৩২ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডে হাসপাতালে উপস্থিত হন। অন্যদিকে, ডা. কামরুল হাসান (আরএমও) সকাল ৯টা ৩৫ মিনিট ৮ সেকেন্ডে হাজিরা দিয়ে চলে যান। একই দিনে জেলার বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্জারি বিভাগের ডা. কাজী ইশরাত জাহান বিলম্বে হাজিরা দেন এবং ডা. রোকসানা আক্তার অনুপস্থিত ছিলেন। গতকাল শনিবার বিকালে জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাহাদাত হোসাইন সাংবাদিকদের জানান, কর্মস্থলে বিলম্বে উপস্থিতি ও বায়োমেট্রিক হাজিরা দিয়ে কর্মস্থল থেকে চলে যাওয়ার অভিযোগে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ঐ সাত জন চিকিত্সক ও বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুই জন চিকিত্সকসহ মোট ৯জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।